বিএনএ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর জুলধা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতটি কিরিচসহ দুইজনকে আটক করেছে বলে পুলিশের দাবি। এ সময় পুলিশের এক কর্মকর্তা আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার জুলধা ডাঙারচরের দীঘির পাড় আবুলের দোকান সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম। আটকরা হলেন—চরলক্ষ্যা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আজিম (৩০) ও একই এলাকার মনু মিয়ার ছেলে মো. ফারুক (৩১)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ডাঙারচর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বিওসি ঘাট যাত্রী ছাউনির কাছে মো. এরশাদ (৩৫)-এর নেতৃত্বে ৪–৫ জনের একটি দল সাম্পানের মাঝি জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগী মো. মুছার ওপর হামলা চালায়।
দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তারা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সাম্পানের মালিক মো. শহীদ নূর বাদী হয়ে এরশাদকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১৯)।
মামলার এজাহারে পূর্বশত্রুতার কথা উল্লেখ থাকলেও বাদী শহীদ নূরের দাবি, সাম্পানের মালামাল আনা–নেওয়া কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির জেরে হামলার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার রাতে মামলার আসামিদের ধরতে ডাঙারচর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নজিবল্লাহ তানভিরের নেতৃত্বে ১০–১৫ সদস্যের একটি দল অভিযানে গেলে প্রধান আসামি এরশাদ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এতে এসআই একেএম নজিবুল হক তানভীর পা ও পিঠে আঘাত পান। পরে অভিযান চালিয়ে আজিম ও ফারুককে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে সাতটি লম্বা কিরিচ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রধান আসামি এরশাদ পালিয়ে যান।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফাঁড়ির ইনচার্জ নজিবল্লাহ তানভির কথা বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নদীপথে চোরাই তেলের কারবার ও আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আইসি তানভীর নিজেই একটা তেল চোর চক্রের সাথে আতাঁত করে দীর্ঘদিন সুবিধা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে—বিশেষ করে অভিযানের সময় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, সিভিল পোশাক ব্যবহারের যৌক্তিকতা এবং নির্ভুলতা নিয়ে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে স্বচ্ছতা, সমন্বয় ও দ্রুত তথ্য প্রদান নিশ্চিত হলে জনমনে আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে চোরাচালান বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।
থানার অপারেশন অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, “দুইজন আটক রয়েছে, কয়েকটি কিরিচ উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় আলোচনা চলছে।”
ওসি মো. শাহীনূর আলম জানান, “এসআই তানভির আঘাত পেয়েছেন। ঘটনাটি ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
বিএনএনিউজ/এইচ.এম।
![]()

