28 C
আবহাওয়া
৩:১৭ পূর্বাহ্ণ - এপ্রিল ২৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » যমুনা ছেড়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন ড. ইউনূস! 

যমুনা ছেড়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন ড. ইউনূস! 


বিএনএ, ডেস্ক : ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের ৮ই আগস্ট শপথ নেওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি বারবার একটি সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করে আসছিলেন। ওই বছর ৩১শে আগস্ট  ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে পুরোপুরি সম্মতি জানান জামায়াতে ইসলামী। কেননা দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতি ছিল না। দলটি  গণহত্যার বিচার  ও সংস্কার না  হওয়ার আগে নির্বাচন নয় এমন দাবি করে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকেন।  যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়তা করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানও  ছোট সংস্কার ও বড় সংস্কারের প্যাকেজ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিএনপির অব্যাহত চাপের মুখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। তার ধারাবাহিকতায় গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

YouTube player

আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। দলটির গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। দুইএকদিনের মধ্যে  রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দলীয় প্রধানকে সরকার গঠনের  আমন্ত্রণ জানাবেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এটা নিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমান শপথ নেওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধ্যায় শেষ হচ্ছে না এমন কথা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ চাউর হয়েছে। তাহলে তিনি যমুনা ছেড়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে ?

প্রসঙ্গত,  গত ১১ ই ডিসেম্বর সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে  সংসদ নির্বাচনের পর নিজের পদ থেকে সরে যেতে চান বলে জানিয়েছেন  রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি অপমানবোধ করছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রায় সাত মাস হলো প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাক্ষাৎ করেননি; তার প্রেস ডিপার্টমেন্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে নিজের ছবি সরিয়ে ফেলার কথাও বলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হতেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে একটি বৈরি সর্ম্পক গড়ে তুলেন। তিনি ভেতরে ভেতরে বিএনপির সঙ্গে সর্ম্পক রেখে রাষ্ট্রপতি  পদে অধিষ্ঠিত হতে চান!

বিএনপি’র  সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন  বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি পদে রাখা নিয়ে বিএনপিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এছাড়া তিনি অতীতেও কোনো মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীত্ব পাননি। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। একমাত্র কুয়েতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই ব্যতিক্রমী কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা তাকে পারদর্শী হিসেবে বিবেচিত করেছে রাষ্ট্রপতি পদে। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত এই প্রবীণ নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদ দিয়ে সেই বিশ্বস্ততার পুরষ্কার হিসেবে সম্মানিত করার আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও নেতৃত্ব বিএনপির অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছে।  অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর নামও আলোচনায় এসেছে। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে কে অধিষ্ঠিত হবেন তা স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ