29 C
আবহাওয়া
২:৫৬ অপরাহ্ণ - জুন ২০, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » দেশের উন্নয়নে টেকসই কৌশল অন্বেষণ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের উন্নয়নে টেকসই কৌশল অন্বেষণ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর


বিএনএ,ঢাকা: তৃণমূল থেকে মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং তৃণমূল থেকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এ সরকারের টার্গেট বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (১১ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৬১তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছোট ভূখণ্ড, কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠী। কাজেই আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেটি মাথায় রেখেই দেশের জনগণ কতটুকু লাভবান হবে, তা ভেবেই প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আর উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশবান্ধব ও ব্যয়সাশ্রয়ী। কীভাবে জ্বালানি উদ্ভাবন করতে পারি, কীভাবে আমরা স্বল্প খরচে উন্নয়নের কাজটা সচল রাখতে পারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা কীভাবে আরও উন্নত করতে পারি, সেটা চিন্তা করেই প্রকল্প নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, তৃণমূল থেকেই উন্নয়নটা করা। তৃণমূল থেকে মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করা। তৃণমূল থেকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব বিশাল বাজার, সেই বাজার আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এরই মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে করা হয়েছে, এখন স্মার্ট বাংলাদেশ করা হবে। যথাযথ পরিকল্পনা করে কাজ হাতে নেওয়া হচ্ছে বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কী দিয়েছি আপনাদের, আপনারা জানেন এবং বলেছেন।

এসময় পরিকল্পনা জনবান্ধব করার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নে গতিশীলতা আসুক, সেটাই আমাদের চাওয়া। অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন আপনারা। সেগুলো মার্ক করে নিয়ে যাচ্ছি আমি। উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে পরিবেশবান্ধব, ব্যয়সাশ্রয়ী। জনগণ কতটুকু লাভবান হবে, সেভাবেই প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। শুধু নির্মাণের জন্যই নির্মাণ করবেন, কিছু কমিশন আসবে; সেসব প্রকল্প গ্রহণ করবেন না। যদি দেখি অহেতুক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, তেমন প্রস্তাব আমি পাস করবো না।

দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আজ বাংলাদেশ ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রকৌশলীদের আরও বেশি গবেষণার প্রয়োজন। সামনে আরও আসছে হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ। এক্ষেত্রে কীভাবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চাহিদা মেটাতে বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের রাস্তা বানাতে এত ব্যয় হয় কেন। যারা এই প্রশ্ন তোলেন, তাদের মাটি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। আমাদের দেশের মাটির যে ধরণ, তাতে করে আগে মাটিকেই প্রস্তুত করতে হয় প্রকল্পের জন্য। যার কারণে ব্যয় বাড়ে।

পুকুর ভরাটের প্রস্তাব নাকচ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৌশলীরা অনেক সময় পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব-পরিকল্পনা করেন, এটা ঠিক না। এমন প্রস্তাব আমি নাকচ করে দিয়েছি। পাশপাশি হাওরেও আর মাটি ভরাট করে রাস্তা হবে না, যা নির্মাণ করা হবে, তা হবে উপর দিয়ে। যাতে পানির প্রবাহ নষ্ট না হয়।

বিরোধীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের কিছু মানুষের কোনো কিছুই ভালো লাগে না; কিছু ভালো লাগে না গোষ্ঠী আছে। তারা বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমন কোনো প্রকল্প নেই, তাদের অভিযোগের তালিকায় নেই! তাদের অহেতুক সমালোচনার পরও যখন মানুষ এসবের সুবিধা পাচ্ছে, জানি না তারা লজ্জা পাচ্ছেন কি না।

তিনি বলেন, পরমাণু বিদ্যুৎ সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব। এসব আধুনিক প্রযুক্তি না নিয়ে আমরা সারাজীবনই পেছনে পড়ে থাকবো? যারা সমালোচক, তারা গাড়িতে না উঠে, গরুর গাড়িতে উঠুন, প্লেনে কেন চড়ছেন? মেট্রোরেল নিয়ে অনেক অনেক সমালোচনা ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সমালোচকরা মেট্রোতে উঠছেন কি না, টানেলে গেলেন কি না, এগুলো মনে হয়, একটু ছবি তুলে রাখা উচিত। তাদের সমালোচনা থেমে যাওয়ার নয়, আমার লক্ষ্য মানুষের জীবন কীভাবে উন্নয়ন করা হবে।

এবারের কনভেনশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’। দেশের প্রাচীন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) ৬১তম কনভেনশন এটি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এস এম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।

বিএনএনিউজ/ রেহানা/এইচ.এম।

 

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ