27 C
আবহাওয়া
৭:১৫ পূর্বাহ্ণ - অক্টোবর ৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » সিইউএফএল এমডি ও মাস্টারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত চায় শ্রমিকেরা

সিইউএফএল এমডি ও মাস্টারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত চায় শ্রমিকেরা


বিএনএ,চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান ও মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি, ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়ে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সিইউএফএল–এর শ্রমিক–কর্মচারীরা।

অভিযোগে বলা হয়, সিইউএফএল–এর ই–জিপি (e-GP) নির্দেশিকা অমান্য করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছিল। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় প্রদান করে সরকারের ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা চালানো হয়। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ সেই টেন্ডার বাতিল করে এবং নতুন ই–জিপি দরপত্রে সরকারের ৫৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এমডির মদদে মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলাম বিগত দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন–ভাতা উত্তোলন করছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হাজিরা খাতায় ‘ব্যাক ডেটে‘ ভুয়া স্বাক্ষর এবং ক্যাজুয়াল ছুটির নথি তৈরি করা হয়। এছাড়া, অচল পরিবহন পুলের গাড়ি সচল দেখিয়ে ভুয়া জ্বালানি খরচ এবং কারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও চোরাই বাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়, ২০২২ সাল থেকে সিবিএ নির্বাচন বন্ধ রেখে কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে পছন্দের লোক বসিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে দুই অভিযুক্তই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এমডি মিজানুর রহমান ভোলা জেলার চড় পাতা গ্রামে দোতলা বাড়ি এবং নরসিংদী জেলায় একটি ৭ তলা ভবন নির্মাণসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, মাস্টার অপারেটর আরিফুল ইসলামও নিজ গ্রামে পাকা বিল্ডিং ও ঢাকায় নামে–বেনামে বিপুল সম্পত্তি করেছেন।

অভিযোগকারীরা জানান, দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্ট অপরাধ। অনিয়মের তথ্য ফাঁস করায় তাঁদের মিথ্যা অভিযোগে বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিইউএফএল–এর সাধারণ কর্মচারীরা।

বিএনএনিউজ/

Loading


শিরোনাম বিএনএ