26 C
আবহাওয়া
৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ - এপ্রিল ১৩, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » ১১৩ বছরের ‘পালকি’তে চড়লেন আফিফা!

১১৩ বছরের ‘পালকি’তে চড়লেন আফিফা!


বিএনএ, ডেস্ক : ১৯১১ সালে রাউজানের জমিদার খান বাহাদুর আব্দুল জাব্বার চৌধুরীর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন চৌধুরানী দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। যেই পালকিতে চড়ে ফাতেমা খাতুন চৌধুরানী গহিরা গ্রামে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ি এসেছিলেন সেই একই পালকিতে চড়ে ১১৩ বছর পর নাতি সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সন্তান ফারাজ করিম চৌধুরীর স্ত্রী আফিফা আলম বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসেন। এটা ছিল নববধু আফিফা আলমের জন্য ফারাজ করিম চৌধুরীর বড়ো ধরনের সারপ্রাইজ। শুধু নববধু আফিফা আলমই নয়- বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরাও এই ১১৩ বছর বয়সী ‘পালকি’ দেখে অবাক হয়েছেন।

YouTube player

প্রসঙ্গত, পালকি সংস্কৃত শব্দ। পালকি এক ধরনের মানববাহিত পরিবহন। আনুমানিক খ্রীষ্ট-পূর্ব ২৫০ সালে রামায়ণে পালকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রাচীন রোমের সম্রাজ্ঞী এবং সিনেটরদের স্ত্রী এবং সম্ভ্রান্ত বংশীয়, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যে বরাদ্দ ছিল মানুষের কাঁধে ভর করা পালকি। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগী ও আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ লোকদের জন্যে এ পরিবহন নিষিদ্ধ ছিল।

মানব সভ্যতার সুচনা লগ্নে পালকি ব্যবহারকারীকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। এখন গাড়ি রাখার জন্য কর দিতে হয়, তখন পালকি ব্যবহার করলে প্রদান করতে হতো কর। প্রয়োজন হতো সরকারি নিবন্ধন। সাইজ অনুযায়ী সরকারী কর্মকর্তারা পালকিতে কত জন বেহারার দরকার হতে পারে তা নির্ধারণ করতেন।

কালক্রমে ইউরোপ হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় জমিদার পরিবারগুলো পরিবহণ হিসাবে ‘বজরা’ নৌকার পাশাপাশি ‘পালকি’ ব্যবহার শুরু করে।

মোগল আমল থেকে ‘পালকি’ নববধু পরিবহণের মাধ্যম হয়ে ওঠে। জমিদারদের নিজস্ব পালকি থাকলেও সাধারণ মানুষ ভাড়া করে বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতো। লাল সিল্ক শাড়ি দিয়ে মোড়ানো পালকিতে যেত কনে। বর ও বরের আত্নীয় স্বজনরা পায়ে হেটেই কনেকে বরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো। ১৯৩০-এর দশকে চাকা চালিত রিকশার প্রচলন ঘটে। এর ফলে পালকি তার গুরুত্ব হারাতে শুরু করে।
কিন্তু  চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে ১৯১১ সালে নববধু হয়ে আসা ফাতেমা খাতুন চৌধুরানীর ব্যবহার করা সেই ‘পালকিটি গুরুত্ব হারায়নি। পরম যত্নে তা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফারাজ করিম চৌধুরীর নববধু আফিফা আলম যখন তার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত, বিশেষ করে বক্স আলী চৌধুরীর বাসিন্দারা ফিরে গেছেন ১৯১১ সালে। আফিফা আলমের মতোই ১২ বছর বয়সে এই বাড়িতে এসেছিলেন ফাতেমা খাতুন চৌধুরানী। তিনি এবং তার স্বামী আব্দুল জাব্বার চৌধুরী নেই। কিন্তু এই বাড়ির চারিদিকে যেন তাদের স্মৃতি বিদ্যমান।

প্রসঙ্গত, বিয়ের পর স্বাভাবিক নিয়মে স্ত্রীর ভরণপোষণ, ভালো-মন্দ দেখা-শোনার দায়িত্ব চলে আসে স্বামীর কাঁধে। ইসলামে কোনো নারীকে বিয়ে করলে তাকে অবশ্যই মোহর দিতে হয়।

স্ত্রীর সম্মান ও স্বামীর সাধ্যানুযায়ী মোহরানা ধার্য করা সুন্নত। তবে মুসলিম সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমিকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনেক নারী মোহরে ফাতেমি পাওয়ার আকাঙ্খাও করে থাকেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তারুণ্যের আইকন ফারাজ করিম রাজধানীর মহাখালী গাউসুল আজম মসজিদে ‘মোহরে ফাতেমি’র মাধ্যমে বিয়ে করেন। সেকারণে ফারাজ করিম চৌধুরীর বিয়ে নিয়ে সারাদেশে হৈ-চৈ পড়ে যায়। কী সেই ‘মোহরে ফাতেমি’?

নবী (সা.) নিজ কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.)-কে হযরত আলী (রা.) এর সঙ্গে বিবাহ দেওয়ার সময় যে মোহর নির্ধারণ করেছিলেন, তাকেই মোহরে ফাতেমি বলে।

মোহরে ফাতেমির পরিমাণ হলো সাড়ে বার উকিয়া বা পাঁচশত দিরহাম। আধুনিক হিসেবে হয় ১৩১ দশমিক ২৫ তোলা বা ১ দশমিক ৫৩০৯ কিলোগ্রাম রূপা। যা বর্তমান বাজার মূল্য ২লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেই মোহরানাই পরিশোধ করেছেন চট্টগ্রাম -৬ সংসদীয় এলাকার সংসদ সদস্য ও রেলপথ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সন্তান ফারাজ করিম। যে কারণে এই বিয়েটি টক অব দি কান্ট্রিতে পরিণত হয়।

বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর পহেলা মার্চ সন্ধ্যায় মানবিক ব্যক্তিত্ব ফারাজ করিম চৌধুরী, তাঁর নববধু আফিফা আলম এবং উভয় পক্ষের স্বজন ও অতিথিদের বরণ করে নেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের চীপ হুইপ সংসদ সদস্য নুরে আলম চৌধুরী লিটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য দিপংকর তালুকদার খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, দিলুয়ারা ইউসুফ আবদুস ছালাম, এস.এম আল মামুন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী , সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শিরিন আকতার, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার রাজিব রঞ্জনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনএ/ সৈয়দ সাকিব, ওজি/এইচমুন্নী/হাসনা

Loading


শিরোনাম বিএনএ