28 C
আবহাওয়া
৫:২৬ পূর্বাহ্ণ - এপ্রিল ১৩, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » হিন্দু- মুসলিম বির্তকে মর্গে পড়ে আছে নারী সাংবাদিক!

হিন্দু- মুসলিম বির্তকে মর্গে পড়ে আছে নারী সাংবাদিক!


বিএনএ ডেস্ক :মরার আবার জাত কী? অমর কথা শিল্পী  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি শ্রীকান্তের এই সংলাপটি অনেকের কাছে প্রবাদতুল্য। কিন্তু এই প্রবাদ আবারও উচ্চারিত হচ্ছে অনেকের মূখে।

মুসলিম নাকি হিন্দু? এই বিতর্কে মর্গে পড়ে আছে রাজধানীর বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় নিহত এক নারী সাংবাদিকের  লাশ। গ্রাম থেকে এসে তার বাবা দাবি করা এক ব্যক্তি বলছেন, মেয়েটির নাম বৃষ্টি খাতুন। তবে সহকর্মী ও পরিচিতরা বলছেন, লাশটি সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর। শুক্রবার বিকেল থেকে  এই নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি দাবি। বেইলি রোডে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে অগ্নিকান্ডে নিহত সবার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর হলেও শুধু নারী সাংবাদিকের লাশটি হস্তান্তর  করা সম্ভব হয়নি।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সবুজ শেখ। আগুনে পুড়ে মারা গেছে তার মেয়ে বৃষ্টি খাতুন—এমন খবর কানে আসার পর কুষ্টিয়া থেকে ছুটে এসেছেন ঢাকায়। অজ্ঞাত পরিচয়ে পড়ে থাকা মেয়ের লাশ দেখে শনাক্ত করেন তিনি। সবুজ শেখ বলেন, তিনি ও তার মেয়েসহ পরিবার মুসলিম ধর্মাবলম্বী। সেই অনুযায়ী দেখান বৃষ্টির এনআইডি কার্ডের কপি।

তবে এরপরই বাঁধে বিপত্তি। লাশটি দেখে অনলাইন পোর্টাল দি রিপোর্টার এ  তার সহকর্মী ও পরিচিতরা দাবি করেন, নিহত নারী সাংবাদিকের নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। তিনি দ্য রিপোর্ট অনলাইন পোর্টালের ইলেকশন কমিশন বিটের রিপোর্টার। এই নামেই সবাই চেনেন তাকে।  সনাতন হিন্দু ধর্মের অনুসারী অভিশ্রুতি শাস্ত্রী পূজার্চনায় নিয়মিত অংশ নিতেন রমনা কালীমন্দির ও ঢাকেশ্বরীতে । তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা-মাকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে লাশ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি তাদের।

এদিকে সবুজ শেখ বলেন, আমার মেয়ের প্রকৃত নাম মোছা. বৃষ্টি খাতুন। সে আমাকে জানিয়েছিল- এমনিতে সে লেখালেখি করে ও হিন্দুদের সাথে চলাফেরা করে সেজন্য তাকে সবাই অভিশ্রুতি নামে ডাকে। আমি বলেছিলাম, এটা তো আমাদের নাম না। তোমার নাম বৃষ্টি, তুমি সে হিসেবে থাকবা।

তিনি বলেন, বৃষ্টি ইডেন কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত বছরই ওর পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে দুটি পরীক্ষা বাদ আছে। ওর রোল নম্বর-২৭৬। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ওকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির এক বান্ধবীর ফোনকল পান। তাকে জানানো হয়  আগুনে অভিশ্রুতি মারা গেছে। আপনি দ্রুত আসেন। তারপরই মর্গে এসে লাশ নিতে চায়। কিন্তু অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর সহকর্মীদের বাধার মুখে তিনি মেয়ের লাশটি পাননি। বৃষ্টি খাতুন কেন অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নাম ধারণ করে সাংবাদিকতার চাকুরি নিয়েছিলেন তার উত্তর এখনো মিলেনি।

প্রসঙ্গত গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে বেইলি রোড়ে কাচ্চিভাইয়ের নিচ তলায় চমুক নামে একটি ফাস্টফুডের দোকান থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবার লাশ স্বজনদের হস্তান্তর করা হলেও শুধু মর্গে পড়ে আছে বৃষ্টি খাতুন বা অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর লাশ। ফলে জাত নির্ধারণ না হওয়ায় মৃত্যুর পরও  নারী সাংবাদিকের অধ্যায়টি রবীন্দ্রনাথের কবিতার মতোই  শেষ হয়েও, শেষ হলো না।

বিএনএ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী, ওজি/এইচমুন্নী

Loading


শিরোনাম বিএনএ