bnanews24.com

সন্তানকে বাঁচাতে অসহায় পিতার আর্তনাদ

ছেলের দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। একটি কিডনি দিয়ে ছেলেকে বাঁচাতে প্রস্তুত আছেন মা। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন করতে ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। দিন মজুর পরিবারের পক্ষে এতো টাকা যোগার করা সম্ভব নয়।

কোটালীপাড়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, উজ্জ্বল, মায়াবী চেহারার ২৮ বছর বয়সী সুদর্শন যুবক শামসুল হক দাঁড়িয়া। পৈত্তিক নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামে হলেও জন্ম থেকেই বসবাস করছেন গোপালপুর গ্রামের নানা বাড়িতে।

ছোট বেলায় আরবী পড়ায় আগ্রহ থাকায় ভর্তি হন মাদ্রাসায়। পড়াশুনা শেষ করে কোটালীপাড়ার হিরণ মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন শামসুল হক। নিমিশেই আচার-আচরণ, পড়ানোর দক্ষতায় সকলের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

মা-বাবা, স্ত্রী, ছেলে ও ছোট ভাইকে নিয়ে একটি সুখের সংসার শামসুল হকের। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শামসুল হক ছেলে সন্তানের বাবা হন। আনন্দিত হয় পরিবারের সবাই। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে পুরো পরিবারে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। অসুস্থ হয়ে পরে শামসুল হক। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা-নীরিক্ষায় ধরা পরে সামসুল হকের দু’টো কিডনিই নষ্ট। কান্নার রোল পড়ে ঘরে-মাদ্রাসা সর্বত্র।

বাবা সলেমান দাঁড়িয়া সামান্য বর্গা চাষী। কঠিন এই রোগের চিকিৎসার টাকা নিয়ে বিপাকে সবাই। যেটুক জমি জমা ছিল তা বিক্রি করে চিকিৎসা চলতে থাকে। টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য  মাদ্রাসার ছাত্ররা নিজেদের টিফিনের টাকা তুলে দেয় তার হাতে। এগিয়ে আসেন আত্মীয়-স্বজন, পার্শ্ববর্তী স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও পরীক্ষা-নিরিক্ষায় নিমিষেই শেষ হয়ে যায় সংগ্রহিত অর্থ। হাত পাতেন আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে। ইতোমধ্যে শামসুল হকের নানা গোপালপুর গ্রামের আবু হানিফ খান তার শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে খরচ চালিয়েছেন চিকিৎসায়।

রাজধানী ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হাসপাতালে অধ্যাপক ডা: কামরুল ইসলামের অধীনে শামসুল হকের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন শামসুল হককে বাচাঁতে হলে অতি দ্রুত অন্তঃত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু কিননি কেনা সামর্থ্য না থাকায় মমতাময়ী কিডনী দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন মা রাহেলা বেগম। অপারেশন এবং ওষুধসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা  প্রয়োজন। অর্থের অভাবে সম্ভব হচ্ছে না কিডনি প্রতিস্থাপন।

টাকার অভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পারায় দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে সামসুল হকের। মৃত্যু যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। নিরুপায় বাবা-মায়ের চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে ছেলে।

স্বামীর চিকিৎসা করতে না পারায় অসহায় হয়ে পড়ছে স্ত্রী হাবিবা বেগম। ২০ মাস বয়সী অবুজ সন্তান মাসরুর মিষ্টি চেহারা দেখে প্রায়ই ডুকরে কেঁদে ওঠেন শামসুল হক। তিন প্রজন্মের কাছে যেন পুরো জীবনটাই এখন অন্ধকারে ঢাকা।

এদিকে এ ঘটনা জানার পর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সমাজিক সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগার। তারা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শামসুল হকের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার জন্য সকলের কাছে সহযোগীতা চেয়েছেন। ১০, ২০, ৫০ বা ১০০ টাকা যার যার সাধ্য অনুযায়ী টাকা দিয়ে শামসুল হকের চিকিৎসায় সহায়তা করার আহবান জানায়।ছেলের জীবন বাঁচাতে সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সহযোগীতা কামনা করেছেন অসুস্থ শামসুল হকের পিতা দিন মজুর সলেমান দাঁড়িয়া।

মা রাহেলা বেগম বলেন, নিজের একটি কিডনি দিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্ঠা করছেন। কিন্তু কিডনি বসাতে ৮ লাখ টাকা লাগবে। টাকা যোগার করতে না পারলে চোখের সামনেই ছেলের মৃত্যু দেখতে হবে। তাই ছেলেকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীসহ সকালের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

বিএনএনিউজ২৪.কম/আর করিম চৌধুরী,এস জি নবী

আরও পড়ুন

বদলগাছীতে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

JewelBarua

খানাখন্দক ডিটি রোডে

Osman Goni

টানা অবরোধে অচল জাবি, বুধবারও ধর্মঘটের ডাক

Osman Goni