Bnanews24.com
Home » মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৭ (গায়েবি আয়)
বিশেষ সংবাদ

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৭ (গায়েবি আয়)

।।ইয়াসীন হীরা।।

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র সভাপতি মুনির উল্লাহ আহমদী ও মহাসচিব অধ্যাপক ফোরকান মিয়ার ভণ্ডামির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের একটি মাধ্যম “তাওয়াজ্জুহ্-বিল্-গায়েব”! এ পদ্ধতির মাধ্যমে কাগতিয়া দরবারে বা পীর কাছে না এসেও মুরিদদের পাপ মুক্ত করা হয়। তারা তাওয়াজ্জুহ্-বিল্-গায়েব এবং ছবক পদ্ধতি’’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে। যা ২০১৭ সালের ২২ আগষ্ট তাদের ওয়েব পেইজ ‘এশায়েত’তে পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয় “তাওয়াজ্জুহ্ বিল গায়েব” মানে অদৃশ্যভাবে পীর সাহেব তার খানকা থেকে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে অবস্থানরত মুরীদদের লতিফাসমুহে তাওয়াজ্জুর মাধ্যমে নিজ সিনায়বাতেনী নূর পৌঁছিয়ে দেওয়া।

মাওলানা হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী’র “জিয়াউল কুলুব” কিতাবের বরাত দিয়ে ‌ তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব সম্পর্কে বলেছেন “মুরীদ যদি পীর সাহেবের সামনে উপস্থিত নাও থাকে, তবে গায়েবানা তাওয়াজ্জুহ্ দিয়ে পীর সাহেব মুরীদের উপকার করতে সচেষ্ট থাকবেন”।

অনুসন্ধানে জানা গেছে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র সভাপতি মুনির উল্লাহ আহমদী ও মহাসচিব অধ্যাপক ফোরকান মিয়ার ভণ্ডামির মাধ্যমে অর্থ আয়ের একটি অভিনব পদ্ধতি হচ্ছে কথিত“তাওয়াজ্জুহ্-বিল্-গায়েব”।তাদের টার্গেট মহিলা ও প্রবাসী। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র প্রধান কর্ণধার মুনিরউল্লাহ আহমদী। দেশে বিদেশে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে প্রতিনিয়ত প্রবাসীরা ব্যাংক হিসাবে ও হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে থাকে।

কাগতিয়া দরবারের সম্পদ

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি ছেড়ে আসা জনৈক মাওলানা জানিয়েছে, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় ২৭ কোটি টাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবন ক্রয় করেছে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি। তবে সূত্র ক্রয় করা ভবনটি কার নামে দলিল করা হয়েছে সেটি জানাতে পারেনি। সরেজমিনে পরির্দশনে গিয়ে দেখা গেছে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক নাকশায় তৈরী ভবনটিতে একটি অভিজাত চাইনিজ রেস্টুরেন্ট চালু করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে রাউজানের কাগতিয়া মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। সভাপতি মুনিরউল্লাহ’র টেলিফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

কীভাবে প্রবাসী ও মহিলাদের পাপ মুক্ত করা হয়?

উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর রয়েছে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশে’র “এশায়েত’’ নামক প্রকাশনায়। এতে বলা হয়েছে সিলসিলায় মহিলারা ঘরে বসে তাদের নির্দিষ্ট ছবক গ্রহন এবং পরিবর্তন করতে পারে। ছবকের জন্য পীরের খানকায় যেতে হয়না। পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে, ছবক গ্রহণ এবং পরিবর্তন করতে পারে। মহিলা মুরীদ মাগরিবের নামাজের পর, সিলসিলায় নির্দিষ্ট অজিফা আদায় করে, আকাঙ্খিত ছবকের নিয়তে জায়নামাজে বসে থাকবে।

এর আগে পীর সাহেবকে,ঐ মহিলার কোন প্রতিনিধি মহিলার অজিফার মেয়াদ এবং নাম অবহিত করাবেন। তখন পীর সাহেব নামাজান্তে বসে,ওই মহিলাকে খেয়াল করে তাঁর খানকা থেকে তাওয়াজ্জুহ্ প্রদান করবেন। ওই তাওয়াজ্জুহ্ মহিলাকে মুরীদান পৃথিবীর যে প্রান্তে থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট ছবকের জায়গায় সে ওই তাওয়াজ্জুর তাছির বা প্রভাব অনুভব করতে পারবে।বিশেষ ক্ষেত্রে প্রবাসী পুরুষ মুরীদদেরও “তাওয়াজ্জুহ্ বিল্ গায়েব” প্রদান করা হয়।

উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, জেদ্দা হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টোলে মুনিরুদ্দীন নামক এক মুরীদকে চট্টগ্রামের কাগতিয়া খানকা থেকে তাওয়াজ্জুহ্ প্রদান করার সাথে সাথে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। পাশে উপস্থিত লোকেরা হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং পরে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন, জনাব মুনিরুদ্দীন নিয়ত করার পর পরিষ্কারভাবে দেখলেন, তার সীনার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে এক টুকরো নূর ঢুকে পড়ছে। নূর তাকে এমনভাবে ২/৩ টি ধাক্কা দেয়, যার দরুন সে সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

আরো উল্লেখ করা হয়, এ এশায়াত সম্মেলনের মাধ্যমে আজ বাংলার জমিন পেরিয়ে বহির্বিশ্বে তথা কানাডার টরেন্টো, নরওয়ে, জাপান, সাউথ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত এ মহান তরিকতের দাওয়াত পৌঁছে গিয়েছে। এ দেশ বিদেশের মহিলাগণ এ তরিকতের ছবক গ্রহণ করার জন্য কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে শরীরে উপস্থিত হতে হয়না। তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব নামক রূহানী-ইন্টারনেট তথা গাউছিয়্যতের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দরবার শরীফ থেকে দেশ বিদেশে পৌঁছিয়ে দেন।

“তাওয়াজ্জুহ্-বিল্-গায়েব এবং ছবক পদ্ধতি’’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে কথিত গাউছুল আজম (শায়খ তফজ্জল) এর নামে প্রচার করা ‘গায়েবি নুর’ নিক্ষেপ সংক্রান্ত কেরামতি জায়েজ করতে ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন উদাহরণ জুড়ে দেয়া হয়। তা হচ্ছে, পীর হযরত শেখ সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) বাগদাদ থেকে “তাওয়াজ্জুহ্ বিল গায়েব” দিয়ে হযরত শেখ সানয়ানী (রঃ) কে হজ্ব যাত্রার পথে ইহুদী মহিলার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করে পুণরায় তাঁকে বেলায়ত দান করেছিলেন।

আরো বলা হয়, তফসীরে “ছা’বীতে” আছে, হযরত এয়াকুব (আঃ) ও নিজ বাসস্থান কে’নান থেকে তাওয়াজ্জুহ্ দিয়ে মিশরে হযরত ইউসুপ (আঃ) কে জোলায়খার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করেছিলেন। এভাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তাওয়াজ্জুর মাধ্যমে মুরীদদের ক্বলবে আল্লাহর ভয় ও যিকির চালু করিয়ে দিয়ে ছিলেন হযরত আযমগড়ী (রঃ) ও তারই অন্যতম সুযোগ্য খলিফা চট্টগ্রাম হালিশহর অধিবাসী বাংলাদেশ খ্যাত মহান অলী হযরত হাফেজ মুনিরুদ্দীন (রঃ)। হযরত হাফেজ মুনিরুদ্দীন (রঃ) এর খরিফার মধ্যে আল্লাহর রহমতে মুষ্টিমেয় কয়েজন “তাওয়াজ্জুহ্ বিল গায়েব” প্রদান করতেন তম্মধ্যে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ গাউছুল আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী একজন।

২০১৭ সালের ২২ আগষ্ট এশায়েত নামে ওয়েব পেইজে কথিত গাউছুল আজম সর্ম্পকে বলা হয়, ‌‌“কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ গাউছুল আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী কেবলা এমনভাবে শরীয়তকে মনে প্রাণে আকঁড়ে ধরেছেন, শরীয়তের বাইরে একচুল পরিমাণও চলেন না তিনি। কোন নারী তো তাঁর সামনে যেতেই পারে না। এমন কি রাস্তাঘাটে যাতে নারী চোখে না পড়ে, সেজন্য তিনি গর্দান ঝুকিয়ে চলাফেরা করতে করতে সম্পূর্ণ গর্দান নীচের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। তাছাড়া ও ফটো তোলা বিষয়ে তাঁর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তিনি মুরীদদের উদ্দেশ্য বলেছেন, “আমাকে নিয়ে সমালোচনাকারীদের কথায় তোমরা ঝগড়ায় লিপ্ত হয়োনা, সমালোচনা কারীরা সমালোচনা করে আমার বিন্দু মাত্র ও ক্ষতি সাধন করতে পারবেনা। কারণ, আল্লাহ তাঁর যে নূরকে উপরে তুলতে চাইবেন। কারো সাধ্য নেই, সেটাকে নীচে নামিয়ে আনার”।

আরো পড়ুন :

মুনিরীয়া’র ভণ্ডামি-১৬(বিচ্ছু কাহিনী)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৫ (রূহানী ডাক্তার)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৪( দুর্ঘটনায় রক্ষা )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৩(মৃত্যুকালে কলেমা পড়ান)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১২(সুনামি তত্ত্ব ! )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামী-১১ ( ঝুলন্ত কোরআন )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১০ ( রাসুল (স:) সঙ্গে দৈনিক সাক্ষাৎ!

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৯ (তাজে গাউছিয়্যত )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৮(খেলাফতের স্বাক্ষী যারা)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৭(ভ্রান্ত যত মতবাদ)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৬

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৫

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৪
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৩
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-২
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১

চলবে-