bnanews24.com
বিএনএনিউজ২৪.কম/ পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী সম্পাদনায় : আবির হাসান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ৮৭

স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনায়  রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে মুক্তিযুদ্ধ পর্ষদ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি  নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধযুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষনা ছাড়াই  ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫খন্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ’।

আজ প্রকাশিত হলো পর্ব : ৮৭

শিরোনাম   :  পাঁচটি রাজনৈতিক দল সমন্বয়ে ৮ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ পর্ষদ গঠিত হয়েছে: স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করার জন্য ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছিলো একটি গণতান্ত্রিক পর্ষদ।

মুক্তিবাহিনীকে দিকনির্দেশনা প্রদান করতে এবং বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দান করতে পরামর্শক হিসেবে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছে।

দলসমূহের নেতৃবর্গের দুই-দিনের সভা শেষে ঘোষণা করা হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধ-পর্ষদ, সে সভাটি পরিচালিত হয়েছিলো প্রধানমন্ত্রী  তাজউদ্দীন আহমেদ কর্তৃক।

যে সকল দল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ-পর্ষদ গঠিত হয়েছিলো, সে দল সমূহ ছিলো:- আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী গ্রুপ), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর গ্রুপ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস।

সরকারের মুখপাত্র জানান, যে কমিটির গঠনটি অবশ্যই নিশ্চিত করবে “বাংলাদেশের ঔপনিবেশিক এবং সাম্রাজ্যবাদী শোষকদের” বিনাশে  সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করে সকল সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদানের।

এতে আরো যোগ করা হয় যে, কমিটির গঠনের দ্বারা বাংলাদেশ সরকার, আওয়ামীলীগ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আস্থাবান মুক্তিকামী জনসাধারণের মধ্যে একতার প্রতিফলন ঘটানো।

সভায় বাংলাদেশ সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য ভারত সহ বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহবান জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ ছাড়াও সভায় যুদ্ধোপকরণাদি আকারে অস্ত্রশস্ত্র প্রদান করে মুক্তিবাহিনী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করতে তাদের প্রতি আকুল-আবেদনও জানানো হয়।

সূত্র : এশিয়ান রেকর্ডার অক্টোবর ১-৭, ১৯৭১

তারিখ : ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান, এহক।

আরও পড়ুন

এশিয়ার তিন দেশ সফর করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Osman Goni

নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ মাছসহ ধরা খেয়ে বরখাস্ত ৩ পুলিশ সদস্য

RumoChy Chy

রাজ্যসভাতেও পাস করা হলো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

RumoChy Chy