bnanews24.com

যুবলীগ কর্মীদের আদর্শের ওপর অবিচল থাকার আহবান শেখ হাসিনার

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ কর্মীদের আদর্শের ওপর অবিচল থাকার আহবান জানিয়েছেন।আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহবান জানান। শনিবার(২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানোর মধ্য দিয়ে এর উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,  ‘কতটুকু পেলাম, কী পেলাম না, এটা নয়, কতটুকু কাজ করতে পারলাম সেটাই হবে রাজনীতিবিদের চিন্তা। এই চিন্তা মাথায় রেখে যারা রাজনীতি করে, তারাই সফল হবে। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের আদর্শে যারা থাকতে চায়, তাদের এই চিন্তা নিয়েই চলতে হবে। দুর্নীতি করে কেউ টাকা বানাতে পারে, এই টাকা দিয়ে জৌলুস করতে পারে, চাকচিক্য বাড়াতে পারে, আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্র্যান্ডের জিনিস পরতে পারে। কিন্তু তাতে সম্মান পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে।এই সংগঠন গড়ে উঠেছে নির্যাতিত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামের লক্ষ্য নিয়ে। এই আদর্শ থেকে যারা বিচ্যুত হয় তারা দেশকে কিছু দিতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের চলার পথে উন্নয়নের পথে যদি কেউ বাধা দেয় তাহলে তাকে আমি ছাড়বো না। সে যেই হোক সে কোনও সহানুভূতি পাবে না। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু দেশটিকে আবার গড়ে তোলেন। রাস্তাঘাট, সেতু, স্কুল-কলেজ চালু করেন। ঘরে ঘরে নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। এমনভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন যে দেশ সল্পোন্নত দেশের

স্বীকৃতি পেয়েছিল। সাত ভাগ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। একটি প্রদেশ যা ছিল শোষিত-বঞ্চিত সেটিকে তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।’

তিনি আরো বলেন,  ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশের মানুষ প্রথম বুঝলো কোনও সরকার দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারে। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টিকলো না। ২০০১ সালে আমাদের সরকারে আসতে দেওয়া হলো না। সেখানেও ছিল চক্রান্ত। এরপর বিএনপির আমলে বাংলাদেশ বিশ্বে তার সম্মান হারালো। পাঁচ বার দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হলো। তবে মানুষ আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে। কিন্তু বিএনপি যদি এতই জনপ্রিয় দল হয়ে থাকে তাহলে ২০০৮ এর নির্বাচনে মাত্র ২৯টা সিট কেন পেয়েছিল। ওই নির্বাচন তো নিরপেক্ষ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘যাদের দুর্নীতিটাই ছিল নীতি, যে এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে কারাগারে, যার ছেলে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, মানি লন্ডারিং মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারা কী করেছে দেশের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। কেউ আর বাংলাদেশের এগিয়ে চলা রুখতে পারবে না। আগামী ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে উন্নত-সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ পায় এ জন্য আমরা ডেল্টাপ্লান ২১০০ ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছি।

এ আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন। সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করেন কংগ্রেসের আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আকাশে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দেন।

প্রধান  অতিথি শেখ হাসিনাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। যুবলীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় এবং ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। মূলপর্বের আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘জয়ের পরে জয়ের প্রতিচ্ছবি’ অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আনজাম মাসুদ।

বিএনএনিউজ২৪.কম/ওসমান গনী, এসজিএন

 

আরও পড়ুন

দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক তিন দিনের রিমান্ডে

bnanews24

পাপনের ক্যাসিনো খেলার ভিডিও দেশের নয়-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

RumoChy Chy

কালো টাকা সাদা করার প্রথা চালু করেছিল বিএনপি-ড. হাছান

bnanews24