bnanews24.com
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ২৪১

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৯৩

“খোদা যা করে তাই হবে, চিন্তা করে লাভ কি?”

আজ প্রকাশিত হলো পর্ব : ১৯৩

আবার পরের মাসে তারিখ পড়ল। আমি আগের মত থানায় ফিরে এলাম। দুই দিন সকাল ও বিকালে সকলের সাথে দেখা হল। রাজা মামা ও মামী কিছুতেই অন্য কোথাও খাবার বন্দোবস্ত করতে দিলেন না। মামী আমাকে খুব ভালবাসতেন। নানীও আছেন সেখানে। আমার খাবার তাঁদের বাসা থেকেই আসত। বাড়ি থেকে যারা এসেছিল তাদের মধ্যে মেয়েরা মামার বাড়ি, আর পুরুষরা নৌকায় থাকতেন।

রেণু আমাকে যখন একাকী পেল, বলল, “জেলে থাক আপত্তি নাই, তবে স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখ। তোমাকে দেখে আমার মন খুব খারাপ হয়ে গেছে। তোমার বোঝা উচিত আমার দুনিয়ায় কেউ নাই। ছোটবেলায় বাবা-মা মারা গেছেন, আমার কেউই নাই। তোমার কিছু হলে বাঁচব কি করে?” কেঁদেই ফেলল। আমি রেণুকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, তাতে ফল হল উল্টা। আরও কাঁদতে শুরু করল, হাচু (শেখ হাসিনা) ও কামাল ওদের মা’র কাঁদা দেখে ছুটে যেয়ে গলা ধরে আদর করতে লাগল। আমি বললাম, “খোদা যা করে তাই হবে, চিন্তা করে লাভ কি?” পরের দিন ওদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। মাকে বোঝাতে অনেক কষ্ট হল।

ফরিদপুর জেলে ফিরে এলাম। দেখি চন্দ্র বাবু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁর হার্নিয়ার ব্যারাম ছিল। পেটে চাপ দিয়েছিল, হঠাৎ নাড়ি উল্টে গেছে। ফলে গলা দিয়ে মল পড়তে শুরু করেছে। যে কোন সময় মারা যেতে পারেন। সিভিল সার্জন সাহেব খুব ভাল ডাক্তার। তিনি অপারেশন করতে চাইলেন, কারণ মারা যখন যাবেনই তখন শেষ চেষ্টা করে দেখতে চান।

আত্মীয়স্বজন কেউ নাই যে, তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতিপত্র লিখে দিবে। চন্দ্র ঘোষ নিজেই লিখে দিতে রাজি হলেন। বললেন, “কেউ যখন নাই তখন আর কি করা যাবে!” সিভিল সার্জন সাহেব বাইরের হাসপাতালে নিতে হুকুম দিলেন। চন্দ্র ঘোষ তাঁকে  বললেন, “আমাকে বাইরের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার তো কেউ নাই। আমি শেখ মুজিবুর রহমানকে একবার দেখতে চাই, সে আমার ভাইয়ের মত। জীবনে তো আর দেখা হবে না।”

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : মনির ফয়সাল

আগের পর্ব পড়ুন : বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৯২

আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১০৬

JewelBarua

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ৯৪

bnanews24

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ২১৮

marjuk munna