Bnanews24.com
Home » মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৪( দুর্ঘটনায় রক্ষা )
বিশেষ সংবাদ

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৪( দুর্ঘটনায় রক্ষা )

।।ইয়াসীন হীরা।।

মুনিরীয়া যু্ব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’এর ব্যানারে রাউজান কাগতিয়া দরবারের পীর কথিত গাউছুল আজম শায়খ তফজ্জল আহমদ এর রূহানী ক্ষমতা বিভিন্ন ভাবে বর্ণণা করা হয়েছে। তার রূহানী ক্ষমতার তুলনা করা হয়েছে ইসলাম ধর্ম প্রচারকারী নবী, সাহাবি, আওলিয়াদের সঙ্গে । বিভিন্ন ভণ্ডামির তথ্য দিয়ে কাগতিয়া দরবারের পীর কথিত গাউছুল আজম তফজ্জল আহমদ এর রূহানী ক্ষমতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন মুনিরীয়া যু্ব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’এর মুনির উল্লাহ আহমদী ও মহাসচিব অধ্যাপক ফোরকান মিয়া। তাদের ভণ্ডামির তথ্য পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রকাশনায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মুনিরীয়া যু্ব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র ২০১২ সালের ২৮ জানুয়ারি বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় এশায়াত সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় “ক্রোড়পত্র” এবং ‍“আল হাবীবু মা’আল হাবিরে ফিল ইসরা” স্মরণিকায় গাউছুল আজমের রূহানী অলৌকিক ক্ষমতার বর্ণনা দেয়া হয়। এতে মুনিরীয়ার ভণ্ডামির তথ্য পাওয়া যায়।

‍“আল হাবীবু মা’আল হাবিরে ফিল ইসরা” স্মরণিকার ১১২ নং পৃষ্ঠায় “রূহানী ক্ষমতার আলোকে গাউছুল আজম” শিরোনামে প্রাক ইসলামিক ও ইসলাম প্রবর্তন কালীন কিছু ঘটনার উদাহরণ দেয়া হয়। এতে বলা হয় ‌“হযরত ইব্রাহিম (আ) যেমন বাইতুল্লাহ শরীফ বানানোর পর সারা পৃথিবীর মানবকে হজ্জে আসার জন্য আহবান করলে সারা পৃথিবীর হাজীগণ তাদের মায়ের পেটে ও বাবার পিঠে তাঁর আওয়াজ শুনেছিলেন। হযরত ইউছুপ (আ:)কে জুলাইখা মিশরের মন্ত্রীর ঘরে অসৎ উদ্দেশ সাধনের জন্য চেপে ধরলে হযরত ইয়াকুব (আ:)এর সামনে উপস্থিত হন। হযরত ওমর (রা:)মসজিদে নববীতে ভাষণ দেয়ার সময় ইরাকের নেহাওয়ান্দের জমিনে সেনাপতি হযরত সারিয়া (রা:)কে সর্তক হওয়ার জন্য বলেছিলেন।

হযরত গাউছুল আজম আব্দুল কাদের জিলানী (রা:)কে যেমন তাঁর কোন মুরিদ পূর্ব প্রান্তে ঘুমন্ত অবস্থায় পরনের কাপড় ওঠে গেলে পশ্চিম প্রান্ত থেকে চতর ঢেকে দিতে পারেন। ঠিক তেমনিভাবে আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসুল (দ:) হযরত শায়খ ছৈয়্যাদ গাউছুল আজম (মুনিরীয়াদের পীর তফজ্জল আহমদ প্রতি নিয়ত রূহানী ক্ষমতা বলে মুরীদান পৃথিবীর যেখানে থাকুক না কেন ‘তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব’ এর মাধ্যমে নবী করিম (সা:)’র বাতেনী নূর তাদের সিনায় নিক্ষেপ করে অন্তরের গুনাহের কালিমা দূর করত: নবী (সা:)’র বাতেনী নূর বিতরণ করতে সক্ষম হন এবং তরিকতপন্থীরাও তা বুঝতে পারেন।

২০১২ সালের ২৮ জানুয়ারি বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদ এলাকায় এশায়াত সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে বানোয়াট এক অলৌকিক কেরামতের বর্ণণা রয়েছে। ৪ এপ্রিল ২০১৮ সালে ওয়েব পোস্টিং করা হয় এটি। এ ক্রোড়পত্রটি বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি’র (বিএনএ) অনুসন্ধানী টিমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এতে বলা হয়, ওমান প্রবাসী এক মুনিরীয়া অনুসারি মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন (প্রকাশ নুরু ইসলাম), পিতা-মরহুম নূর মোহাম্মদ, মাঝিপাড়া, মুহাম্মদপুর, রাউজান, চট্টগ্রাম এর বরাত দিয়ে ক্রোড়পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের ৩১ আগস্ট, (ঈদুল ফিতরের পরের দিন) ওমানের মেজুয়া জবলে আখদার-এ তিনি এবং আহমদ ছগির বাবুল সপরিবারে গাড়িযোগে ভ্রমণে যান। ভ্রমণ শেষে গাড়ি যোগে জবলে আখদার থেকে নামার সময় গাড়ির ব্রেকফেল হলে আহমদ ছগির বাবুল সকলকে কলেমা শরীফ পড়তে বলেন। নিশ্চিত দুর্ঘটনা বুঝতে পেরে ড্রাইভার ভয়ে ড্রাইভিং সিটে হার্টফেল করেন (ইন্নালিল্লাহ)। আর গাড়িটি প্রায় ২২০০ফুট গভীর খাদে পড়ছিল।

নাজিম উদ্দীন বলেন, এমতাবস্থায় আমি কলেমা শরীফ পড়ছিলাম এবং আমার মোবাইলে মহান মোর্শেদ, আওলাদে মোস্তফা, খলীফায়ে রাসূল (দ.) এর শানে রচিত কছিদা শরীফ (গজল) চলছিল। গাড়িটি দুই একবার উল্টে যেতেই আমি ছিটকে পড়লাম আর গাড়িটি আর একদিকে ছিটকে পড়েছে। তৎক্ষণাৎ স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, যেদিকে গাড়িটি ছিটকে পড়ছে ওই দিকেই ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (মাজিআ)হুইল চেয়ারে বসা আছেন। আর গাড়ীর যাত্রীদেরকে বলেছেন, তোমরা এদিকে কোথায় পড়ছ? একথা বলে তিনি গাড়িটি আটকে দিলে গাড়িতে থাকা সবাই এমনকি ছোট্ট মেয়েটিও প্রাণে রক্ষা পায়।

উল্লেখিত এমন ঘটনার কোন তথ্য প্রমাণ নেই। কোন সংবাদ মাধ্যমে এমন ঘটনা প্রকাশ হয়নি। শুধু একজন ব্যক্তি নাম ঠিকানা প্রকাশ করে এহেন অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এমন ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, গাড়িটি ২২০০ ফুট (৭৩৩ গজ) উঁচু থেকে পড়ছিল।

উল্লেখ, ১৭৬০ গজে এক মাইল। সে হিসাবে দেখা যায়, দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অথাৎ আধা কিলো মিটার ওপর থেকে গাড়িটি নিচে পড়ছিল। তার আগে গাড়িটি দুই-একবার উল্টে গিয়েছিল। সেখানে আগে থেকে হুইল চেয়ারে কথিত গাউছুল আজম আগে থেকে বসাছিলেন! ‌তিনি ‌গাড়ীর যাত্রীদেরকে বলেছেন,‘তোমরা এদিকে কোথায় পড়ছ ?’ এ কথা বলেই তিনি গাড়িটি আটকিয়ে দেন।

শুধু মুনিরীয়ার অনুসারী হওয়া এবং গাড়িতে মোবাইলে কথিত মহান মোর্শেদ, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (দ.) এর শানে রচিত কছিদা শরীফ (গজল) শোনার কারণে তারা নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পান। অন্যদিকে মাইক্রো চালক মুনিরীয়ার অনুসারি না হওয়ায় হার্টফেল করে মারা যান।

এছাড়া বাংলাদেশের কুমিল্লায় এস.আলম পরিবহনের বাস দুর্ঘটনার একটি কেরামত বিভিন্ন এশায়েত সম্মেলনে স্থান পেয়েছে। এশায়েত সম্মেলন ও মুনিরীয়া যুব তবলীগে প্রকাশিত বিভিন্ন পুস্তকে এ ঘটনাটি লিপিবদ্ধ রয়েছে। ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংর্ঘষে ২৭ জন যাত্রীর মধ্যে ২৬ জনই মারা গেছে। শুধু মুনিরীয়া অনুসারি একজন বালক বেঁচে গেছে! ওই বালক দূর্ঘটনার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল। অজ্ঞান অবস্থায় দেখছেন। কাগতিয়া দরবার শরীফ থেকে গাউছুল আজম ছুটে এসেছেন। গাউছুল আজম এসে আটকা পড়া বালককে (সেনি-হাতুড়ি দিয়ে) বাস কেটে বের করে এনেছেন!

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি’র পক্ষ থেকে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তাদের নথিতে ২৬ জন যাত্রী নিহত হওয়ার কোন ঘটনা লিপিবদ্ধ নেই। এস.আলম পরিবহণ কর্তৃপক্ষ এটিকে তাদের সুনামহানিকর উদ্দেশ্যমূলক একটি কল্পকাহিনী বলে মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখিত দুর্ঘটনা সমুহে মুনিরীয়ার মুরিদরা (অনুসারিরা)যেভাবে রক্ষা পেয়েছেন তা সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে।

চলবে ..

আরো পড়ুন :

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৩(মৃত্যুকালে কলেমা পড়ান)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১২(সুনামি তত্ত্ব ! )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামী-১১ ( ঝুলন্ত কোরআন )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১০ ( রাসুল (স:) সঙ্গে দৈনিক সাক্ষাৎ!

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৯ (তাজে গাউছিয়্যত )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৮(খেলাফতের স্বাক্ষী যারা)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৭(ভ্রান্ত যত মতবাদ)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৬

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৫

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৪
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৩
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-২
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১