Bnanews24.com
Home » মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৩(মৃত্যুকালে কলেমা পড়ান)
বিশেষ সংবাদ

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১৩(মৃত্যুকালে কলেমা পড়ান)

।।ইয়াসীন হীরা।।

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর সভাপতি মুনিরউল্লাহ আহমদী ও মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ ফোরকান মিয়া তাদের ধর্ম ব্যবসাকে সম্প্রসারণ করতে গিয়ে নানা ভণ্ডামি ও চলচাতুরির আশ্রয় নেন। তারা বুঝানোর চেষ্টা করেন রাউজান কাগতিয়া দরবারের মুরিদ হলে মুরিদদের খুব সহজে পরকোলে জান্নাত পাবেন! ভণ্ডামির মাধ্যমে মুরিদদের মগজ ধোলাই করা হয়। এ মগজ ধোলাইয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।এর একটি একটি মুরিদের মৃত্যুকালে কথিত গাউছুল আজম (তফজ্জল আহমদ)এর স্বশরীরে উপস্থিতি। তিনি কলেমা পড়ান! তিনি গুনাহ (পাপ) মাফ করার ক্ষমতা রাখেন!

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র ব্যানারে আয়োজিত বিভিন্ন এশায়েত সম্মেলনে এমন বানোয়াট কেরামতি’র বেশ কিছু ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে। শুধু মুখে বলেই ক্ষান্ত হননি মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র কর্মকর্তারা। বিভিন্ন প্রকাশনায় বিষয়টি বেশ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি’(বিএনএ)’র অনুসন্ধানী টিমের কাছে বেশ কিছু ভণ্ডামির তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

“কারামতের আলোকে” শিরোনামে লেখায় বলা হয়েছে, “যখন আল্লাহ তা’লা তাঁর কোন বান্দার বেলায়াত প্রকাশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তখন তাঁর দ্বারা এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটান; যা তাঁর আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রমাণ বহন করে। যা দ্বারা বুঝতে পারেন তিনি কোন পর্যায়ের অলী। অতএব কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (দ:) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহ আনহুর এমন অগণিত কারামত রয়েছে যেগুলো জাহেরীভাবে তার গাউছিয়্যাতের স্বাক্ষ্য বহন করে।

এখানে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর সভাপতি মুনির উল্লাহ আহমদী’র পিতা কথিত গাউছুল আজম শায়খ তফজ্জল আহমদ এর কলেমা পড়ানো সংক্রান্ত এর একটি বানোয়াট ভণ্ডামি এখানে তুলে ধরা হলো। যা লিপিবদ্ধ রয়েছে ‌‘আল হাবীবু মা’আল হাবিবে ফিল ইসরা’ স্মরণকিার ১১৩ নম্বর পৃষ্টায়।

এখানে তা হুবহু তুলে ধরা হলো। “মোহাম্মদ ইয়াছিন, পিতা: হাজী আবুল হাসেম, চাঁদার বাড়ি, মৌলভী পুকুরের পূর্বপাড়, চাঁন্দগাও, চট্টগ্রাম এবং মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি, বাংলাদেশ ১৩ নম্মর সাবানঘাটা শাখার সহসভাপতি। তিনি বলেন ১০/১১ মাস যাবত আমার পিতা ফুসফুসের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। ইন্তেকালের ১০/১২ দিন পূর্ব থেকে তার অবস্থা দিনদিন অবনতির দিকে গেলে আমরা সর্বদা তাঁর আশেপাশে অস্থান করতে লাগলাম।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সাল, বুধবার দিবাগত রাতে আমি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে ওঠে অযু-কালাম করে পিতার পাশে গিয়ে দেখতে পেলাম, তিনি হাসি মুখে তরিক্বতের অজিফা-কালাম আদায় করছেন।

এমতাবস্থায় আমি স্ব-চক্ষে দেখতে পেলাম সবুজ পাগড়ি এবং সাদা জোব্বা শরীফ পরিহিত, মুখে সাদা দাড়ি, বয়স্ক একজন বুজর্গ ব্যক্তি আমার পিতাকে মাথার পাশে বসে কালেমা শরীফ পড়াচ্ছেন এবং আমার পিতা তাঁর মুখে মুখে কালেমা পড়তে লাগলেন।আর কিছুক্ষণ পর দেখলাম তিনি চলে গেলেন। আমি অবাক হয়ে আমার পিতার পাশে বসে আমিও কলেমা শরীফ পড়তে পড়তে দেখলাম আমার বাবা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নাল্লিাহি………. রাজেউন)।

তখন অমি বিষয়টি বুঝতে পারলাম। আমার আব্বাকে যিনি কালেমা শরীফের তালকিন দিয়েছেন তিনি হলেন কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (স:) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (র:)”।

একই স্মরণিকার ১১৪ নম্বর এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা হয়, “অতএব, যিনি ছকরাতের বিছানায় উপস্থিত হয়ে মুরিদকে কালেমা শরীফ তলকীন দেয়ার ক্ষমতা রাখেন নিশ্চয় তিনি জামানার গাউছুল আজম। আমি (মোহাম্মদ ইয়াছিন) ওই দিন সকাল বেলায় উক্ত ঘটনা আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম ছাহেবকে বললে তিনি আমাকে বললেন যে, এ ধরনের কামেল অলিগণ অবশ্যই মুরিদের মৃত্যু শয্যায় আসতে পারে। তাতে কোন সন্দেহ নেই’’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখিত ভণ্ডামির অলৌকিক কল্পকাহিনী বিভিন্ন এশায়েত সম্মেলন ও তরিকত্ব কনফারেন্স’এ প্রচার করেন মুনির উল্লাহ’র ভাড়াটে মওলানারা । এদের অন্যতম মওলানা সেকান্দর আলী। গাউছুল আজম কমপ্লেক্স, বায়েজিদ, চট্টগ্রামে আয়োজিত ২০১৭ সালের তরিকত্ব কনফারেন্স’এ মাওলানা সেকান্দর আলী কথিত এ অলৌকিক ঘটনাটি ফের প্রকাশ করেন।

গাউছিয়্যাত এর তাজ মুনিরউল্লাহ’র মাথায়!

বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সির (বিএনএ)’র সংরক্ষণে থাকা একই ভিডিও চিত্রে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মাওলানা সেকান্দর আলী মুনিরীয়া অনুসারিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কাগতিয়ার পীর তফজ্জল আহমদ(র.) বেছাল শরীফের পর (মৃত্যুর পর) ২০১৬ সালের ৭ মে শনিবার এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র ৩০ নম্বর শাখার সদস্য  কাজী গোলাম মোস্তফার বরাত দিয়ে  মাওলানা সেকান্দর আলী এ কেরামত বর্ণণা করেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৭ মে কাগতিয়ার পীর তফজ্জল আহমদ এর মৃত্যুর চারদিন পর ফাতেহা (কুলখানি) ও ওরশ শরীফে উপস্থিত হয়েছেন। মোশাহেদায় দেখেছেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র সভাপতি মুনিরউল্লাহ আহমদী তকলিল (বক্তব্য) দিচ্ছেন। এ সময় কাগতিয়ার পীর কথিত গাউছুল আজম আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (স:)তফজ্জল আহমদ রওজা শরীফ (কবর) থেকে ওঠে মঞ্চে এসেছেন!

অতপর: তাঁকে এক সময় তা মদীনায় রাসুল (স:) গাউসিয়্যাতের যে “সোনালী তাজ” পরিয়ে দিয়েছেন সেটি তার একমাত্র প্রতিনিধি কনিষ্টপুত্র মুনিরউল্লাহ আহমদীর মাথায় পরিয়ে দিয়েছেন!

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৪ মে মুনিরীয়া অনুসারিদের পীর তফজ্জল আহমদ মৃত্যূবরণ করেন।এ অবস্থায় ভক্ত মুরিদের কাগতিয়া দরবারে অলৌকিক ক্ষমতা অব্যাহত রয়েছে তা বুঝাতে নতুন নীল নকশা তৈরী করেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর সভাপতি মুনিরউল্লাহ আহমদী ও মহাসচিব অধ্যাপক ফোরকান মিয়া। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর সভাপতি মুনিরউল্লাহ আহমদী’কে পরবর্তী “গাউছুল আজম” খেতাব দেয়া হয়। যা ২০১৬ সালের ৭ মে’এর মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র ৩০ নম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য কাজী গোলাম মোস্তফা কথিত মোশাহেদার বরাত দিয়ে গাউছুল আজম কমপ্লেক্স, বায়েজিদ, চট্টগ্রামে আয়োজিত ২০১৭ সালের তরিকত্ব কনফারেন্স’এ মাওলানা সেকান্দর আলীর মাধ্যমে প্রচার করেছেন। এটি মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর সভাপতি মুনিরউল্লাহ আহমদী’র পূর্ব পরিকল্পিত ভণ্ডামি এতে কোন সন্দেহ নেই।

চলবে…

আরো পড়ুন :

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১২(সুনামি তত্ত্ব ! )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামী-১১ ( ঝুলন্ত কোরআন )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১০ ( রাসুল (স:) সঙ্গে দৈনিক সাক্ষাৎ!

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৯ (তাজে গাউছিয়্যত )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৮(খেলাফতের স্বাক্ষী যারা)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৭(ভ্রান্ত যত মতবাদ)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৬

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৫

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৪
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৩
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-২
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১