Bnanews24.com
Home » দেশের ৭৯ বৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে নকল ওষুধ
জনদুর্ভোগ টপ নিউজ ব্যবসা সব খবর সারাদেশ

দেশের ৭৯ বৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে নকল ওষুধ

দেশের ৭৯ বৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে নকল ওষুধ

বিএনএ ডেস্ক: দেশের বৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে নকল ওষুধ। রাজধানীর মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি চক্র ওষুধ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সারা দেশে। সরকার অনুমোদিত ৭৯টি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কারখানায় নামিদামি অ্যালোপ্যাথিক কোম্পানির ওষুধ নকল করা হয়।

গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সরবরাহ করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে। ডিবি জানায়, দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে নকল করা হচ্ছে বিদেশি নামিদামি ওষুধও। এগুলো উৎপাদন ও বিপণনের কাজে জড়িত একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। আর নকল ওষুধ বিপণনের বড় হাট রাজধানীর মিটফোর্ড। অধিক লাভের আশায় জেনেশুনেই ফার্মেসি মালিকরা তা কিনে বিক্রি করছেন।

ডিবি জানিয়েছে, হুবহু ‘আসল’ মোড়কে গ্যাস্ট্রিক, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের নকল ওষুধ বাজারে ছাড়ছে সংঘবদ্ধ চক্র, যা দেখে আসল-নকল যাচাই করা ভোক্তার পক্ষে অসম্ভব। জানা যায়, আটা, ময়দা, রং ও ঘনচিনি মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব নকল ওষুধ। যা রোগ সারানোর বদলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণে।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রাজধানীর ফকিরাপুলে প্যাকেজিং ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন নামিদামি ওষুধ কোম্পানিগুলো এসব কারখানা থেকে বিভিন্ন ওষুধের মোড়ক তৈরি করে। কিছু প্যাকেজিং কারখানার অসাধুরা অর্ডারের অধিক পরিমাণে মোড়ক তৈরি করে, যা পরে নকলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করে দেয়। ফলে এসব মোড়কে নকল ওষুধ বাজারজাত হলেও বোঝার কোনো উপায় থাকে না

হাফিজ আক্তার বলেন, এসব আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি কোম্পানি বিভিন্ন অ্যালোপ্যাথিক কোম্পানির বহুল ব্যবহৃত নকল ওষুধ বানাচ্ছে। বাইরে নতুন করে নকল ওষুধ ফ্যাক্টরি কেউ স্থাপন করেনি। ইউনানি এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ কোম্পানিগুলোকে মনিটরিং করতে না পারলে নকল ওষুধ তৈরি বন্ধ করা মুশকিল।

এদিকে ওষুধ প্রশাসন জানায়, তাদের জনবল কম, যে কারণে অ্যাকশনে যেতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে বলে মত অধিদপ্তরের।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষ ওষুধ সেবন করে জীবনরক্ষার জন্য; কিন্তু এতে যদি জীবনের জন্য ক্ষতিকর হয়, তা দুঃখজনক।

হাফিজ আক্তার বলেন জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনে ২৮৪টি কোম্পানির অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া ২৮১টি ইউনানি, ৩৪টি হারবাল ও ২১২টি আয়ুর্বেদিক কোম্পানিকেও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে ইউনানি, হারবাল ও আয়ুর্বেদিক কোম্পানির কিছু মালিক তাদের নিজস্ব ওষুধ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যালোপেথিক কোম্পানির নকল ওষুধ তৈরি করছে।

বিএনএ/ আর