bnanews24.com
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

১৫ আগস্ট : কালিমালিপ্ত শোকের দিন

।।জুয়েল বড়ুয়া।।

আগস্ট মাস, বাঙালি জাতির শোকের মাস।এই মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারায় জাতি। কেবল জাতির পিতা নয়, তাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ইতিহাসের এই দিনটিকে সবচেয়ে কলঙ্কিত দিনে পরিণত করেছে হত্যাকারীরা। যে পিতা স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, যে পিতা স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে কেবল গুছিয়ে নিতে শুরু করেছেন, এদিন ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছিল সেই পিতার প্রাণ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্র স্বাধীন বাংলাদেশ এর স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত এক বেদনাবিধূর শোকের দিন। সেদিন খুনিরা শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করেছিল। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়।

ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী, মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামাল, দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল ও তার স্ত্রী রোজী জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র কিশোর শেখ রাসেল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতার ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পিতা-মাতা সব হারানো দুই বোন দেশেও ফিরতে পারেননি। শরণার্থীর মতো তাদের থাকতে হয়েছে বিদেশ-বিভূঁইয়ে।

সেনাবাহিনীর চাকরিরত ও চাকরিচ্যুত ৭-৮ জন মেজর পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ২টি ইউনিট এই বর্বরতায় অংশ নেয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ছিল একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতাবিরোধী আন্তর্জাতিক চক্র তাদের এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করে। স্বাধীনতাবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দোসররাই যে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমেরিকার নিক্সন-কিসিঞ্জার এবং পাকিস্তানের ভুট্টো চক্র বাংলাদেশের স্বাধীনতারই শুধু বিরোধিতা করেনি, স্বাধীন বাংলাদেশ যাতে বিশ্ব মানচিত্রে টিকে থাকতে না পারে তারও চক্রান্ত করেছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এবং পাকিস্তানের ভুট্টো যে বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত, এর প্রমাণও রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রবল প্রতাপশালী দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়। কিসিঞ্জারের সাবেক স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট রজার মরিস এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবের প্রতি তার (কিসিঞ্জার) ঘৃণার কথা স্বীকার করেছেন। মরিস জানান, ‘শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে কিসিঞ্জার তার ব্যক্তিগত পরাজয় বলে মনে করতেন।

আমাদের দেশে বিকৃত ইতিহাস পরিবেশনের জন্য ইংরেজদের দোষ দেওয়া হলেও তাদের কূটনৈতিক জ্ঞান ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারার কথা অস্বীকার করা যায় না। তারা বুঝেছিলেন, ইতিহাস ভেজাল দিয়েই ভারতবাসীকে অন্ধকারে রাখা সম্ভব, এবং উদ্দেশে ইতিহাস-স্রষ্টা মুসলিম জাতির অক্লান্ত পরিশ্রমের রচনা-সম্ভব আরবী, ফারসী ও উর্দু ইতিহাসগুলোর প্রায় প্রতেকটি অধ্যয়ন, গবেষণা ও অনুবাদ করতে তারা যে অধ্যবসায় ও পরিশ্রমশীলতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা অনস্বীকার্য এবং উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার যত কুট কৌশল এই ইংরেজরাই করে গেছে। স্কুল কলেজর ইতিহাসে সুকৌশলে সত্য ইতিহাস গোপন করে ছেলে মেয়ে দের মাথা নস্ট করা তাদের মুল উদ্দেশ্য ছিল। এবং তা তারা পেরেছিল। আসল ইতিহাস তারা চাপা দিতে পেরেছিল।

মীরজাফর ইংরেজদের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। বন্ধু ছিলেন ক্লাইভ, ওয়াটস, হলওয়েল সবারই। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্টজনদের ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হয়।যে আপন জনের ষড়যন্ত্রে সিরাজ নিহত হয়েছেন , ঠিক সেই রকম আপনজনের ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু নিহত হন।ঠিক একই রকম ষড়যন্ত্রে নিহত হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি।বিদেশী ষড়যন্ত্রেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।দুজনের মৃত্যুই একি সুত্রে গাঁথা।

বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিব চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্য্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

আরও পড়ুন

দালিয়ান থেকে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

RumoChy Chy

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত

bnanews24

শৈশবে ধর্ষিতা হয়েও আজ যিনি হলিউড তারকা

bnanews24