bnanews24.com
চট্টগ্রামে সিএনজি অটোরিক্সা মিটারে কেন চলে না

চট্টগ্রামে সিএনজি অটোরিক্সা মিটারে কেন চলে না

।।জুয়েল বড়ুয়া।।

ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় বন্ধে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় বসানো হয়েছিল মিটার।কিন্ত অধিকাংশ অটোরিক্সার চালকরা এখন মিটারে যাত্রী বহন করেন না।বাস্তবে দেখা গেছে এসব অটোরিক্সা চালকরা তাদের পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে গেছেন। মিটারে চলতে বাধ্য করার জন্য  পুলিশ ও বিআরটি’র অভিযান বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়েছে অটোরিক্সার চালকরা। এ অবস্থায় ভাড়া নিয়ে প্রতিনিয়ত তর্কে জড়াচ্ছেন চালকরা।  এদিকে ড্রাইভিং আসনের সামনে ওপরের দিকে অটোরিকশায় মিটার লাগানো থাকলেও তারা বিআরটি’র আইন ভঙ্গ করে মিটারে ভাড়া না নিয়ে চুক্তিতে যাত্রী তুলছে। বিভিন্ন স্টেশনে সিএনজি চালকরা যাত্রীদের জিন্মি করে দ্বিগুন থেকে তিনগুন ভাড়া আদায় করছে।

নগরীতে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুন করেও চালকদের মিটারে চলাচল বাধ্য করা যায়নি।  এখনো চালকদের সেই পুরোনো সুর “পোষায় না”।  মালিককে ভাড়া বেশি দিতে হয়।  অল্প দূরত্বে যেতে চালকদের অনীহা এবং মিটারের পরিবর্তে চুক্তিতে যেতে বাধ্য করা নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে।কোনো চালক মিটারে যেতে রাজি হলেও বাড়তি ৫০/৬০ টাকা বেশি দাবি করছেন।

নগরীর বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো সবগুলো সিএনজি অটোরিক্সায়  মিটার নেই।  এর মধ্যে অধিকাংশ অটোরিক্সা চলছে মিটারের পরিবর্তে ভাড়ার চুক্তিতে। যাত্রী মিটারে যাওয়ার কথা বললে সাফ জবাব দিচ্ছেন যাবেন না।  অথচ মিটারে যে দূরত্বে বা যেখানেই যাত্রী চাইবেন সেখানেই চালক যাওয়ার বিধান রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের সাথে তর্কে জড়াচ্ছেন চালকরা।  বাধ্য হয়েই ভাড়ার চুক্তিতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীতে বৈধ সিএনজি অটোরিক্সা আছে ১৩ হাজারের মতো।  অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সার  সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। আবেদিত (এফ আর) লিখে চলছে কয়েক হাজার ট্যাক্সি।  এছাড়া সরকার সমর্থক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়েও রাস্তায় ট্যাক্সি চলা অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া নগরীতে স্থানীয় নেতা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে ‘গ্রাম সিএনজি ট্যাক্সি’ চলাচল করছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে বিভিন্ন সিন্ডিকেট। এসব অটোরিক্সা গুলোতে মিটার না থাকলেও প্রশাসন এ দিকে রহস্যজনক কারণে দৃষ্টিপাত করছেন না।

রোববার(৮সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর মুরাদপুর মোড়ে দাড়িয়ে অটোরিক্সা ভাড়া করার চেষ্টা করছিলেন সিইপিজেডগামী মো. সফিকুর রহমান ও শিমুল দাশ নামের দুই যাত্রী।  প্রায় আধ ঘন্টা পর হাল ছেড়ে দিয়ে ট্যাক্সির চাহিদা মতো ভাড়ায় উঠতে হলো তাদের।  এসময় তারা বলেন, সকালে অফিসের উদ্দশ্যে যাওয়ার সময় ট্যাক্সিগুলো যেতে চাইনা।  যদিও যায় তাহলে আসা যাওয়ার ভাড়া পুষিয়ে নেয় যাত্রীদের কাছ থেকে।

মিটারে কেন যাচ্ছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্যাক্সি চালক মো. সেলিম বলেন, মিটারে পোষায় না, যাত্রীরাও চান না।তাই অধিংকাশ অটোরিক্সা মিটারে চলছেনা।

সিএনজি অটোরিক্সা মিটারে চলছেনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন্দর জোনের ডিসি (ট্রাফিক) মো. তারেক আহম্মেদ নিউজ বিএনকে বলেন, নগরীতে গাড়ির নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরাতে প্রতিদিন গড়ে দু’শতাধিক মামলা করা হচ্ছে।  সিএনজিতে মিটার সচল থাকলেও যাত্রীরা যাচ্ছেনা।  অনেক সময় চালকের পক্ষ হয়ে যাত্রীরা কথা বলে।  পুলিশ জানতে চাইলে মিটারে যাচ্ছে বলে তারা জানায়।

তিনি আরো বলেন, সিএনজি ট্যাক্সির বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রতিদিন দু’একশ মামলা হচ্ছে। প্রতিমাসে সিএনজি চালক এবং মালিকদের নিয়ে সচেতনামূলক সেমিনার সভা ট্রাফিক বিভাগ থেকে করা হয়। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে চালকরা মিটারে যেতে চাননা। চালকদের মিটারে যেতে বাধ্য করতে যাত্রীসহ আমাদের সকলের সচেতন হতে হবে।এ ছাড়া তিনি নিজেও প্রতিমাসে নগরীর বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রদের ট্রাফিক আইন সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি বলে জানান ডিসি।

বিএনএনিউজ২৪.কম/এসজিনবী

আরও পড়ুন

চবিতে সংঘর্ষের পর লাগাতার অবরোধ

Osman Goni

কাপড়ের দোকানে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা

hasanmunna

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ওয়েজবোর্ড ঘোষণা-ওবায়দুল কাদের

RumoChy Chy