bnanews24.com
সরোয়ারের যত অপকর্ম

সরোয়ারের যত অপকর্ম

।। হাসান মুন্না ।।

সরোয়ার ওরফে বাবলার নাম শুনলেই অনেক ব্যবসায়ী আতঙ্কে থাকতেন। দেশের বাহিরে থাকলেও চালিয়ে গেছেন চাঁদাবাজি। চট্টগ্রামের মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন সরোয়ার। চাঁদা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তার ওপর নেমে আসত নির্যাতন। গুলি করা হতো, পুড়িয়ে দেওয়া হতো। একসময়ের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়া সরোয়ার চট্টগ্রাম পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী।

সেই সরোয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাতার থেকে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছান সরোয়ার। গোপন সংবাদ পেয়ে সেখানে তাকে গ্রেফতার করে বিমান বন্দর থানা পুলিশ।

সরোয়ারের গ্রেফতারের কথা জানিয়ে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশের একটি দল তাকে হেফাজতে নিতে ইতোমধ্যে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। চট্টগ্রামে নেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওসি আরও জানান, বহদ্দার এইট মার্ডার মামলার আসামি সাজ্জাদ দুবাই পালিয়ে থাকা অবস্থায় তার পক্ষে সন্ত্রাসী গ্রুপের দায়িত্ব নেয় সরোয়ার এবং ম্যাক্সন নামে দু’সন্ত্রাসী। সাজ্জাদের হয়ে তারা বায়েজীদ এবং অক্সিজেন এলাকায় নির্বিচারে চাঁদাবাজী করছিল। দুবাই থেকে সাজ্জাদের নির্দেশনা অনুযায়ী চাঁদা না পেলে স্থানীয়দের বাড়িতে গুলি বর্ষন এবং আগুন লাগিয়ে দিতো সরোয়ার ও ম্যাক্সনসহ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা।

তিনি আরো বলেন, ‘২০০০ সালের ১২ জুলাই নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে সাজ্জাদের নেতৃত্বে শিবির কর্মীদের ব্রাশফায়ারে ছাত্রলীগের আট নেতা-কর্মী নিহত হয়েছিলো। পরে এই মামলায় সাজ্জাদের সাজা হয়। কিন্তু ২০০১ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেফতার হওয়া সাজ্জাদ বিগত বিএনপি ক্ষমতা থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্ত হয়ে আসে দুবাই পালিয়ে গিয়েছিলো।

গ্রেফতার সরোয়ার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খোন্দকারপাড়ার আবদুল কাদেরের ছেলে।

চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এলাকায় ত্রাশ ছিলেন সরওয়ার। ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সাজ্জাদের হাত ধরে এলেও একটা সময় নিজেও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন।

২০০১ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেফতার হওয়া সাজ্জাদ বিএনপি সরকারের আমলে কারামুক্ত হয়ে দুবাইয়ে পালিয়ে যায়।

২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ আটজনকে খুনের ঘটনায় দায়ের আলোচিত এইট মার্ডার মামলার আসামি ছিল সাজ্জাদ যার নেতৃত্বে কাজ করত সরোয়ার। ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাটের কাছে প্রকাশ্যে ব্রাশফায়ারে ছাত্রলীগের আট নেতা-কর্মী নিহত হয়। ওই দিন চট্টগ্রাম গর্ভমেন্ট কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের সাবেক ভিপি ও সাবেক এজিএসসহ আট নেতা-কর্মী দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য যাওয়ার পথে বহদ্দারহাটের কাছে তাদের মাইক্রোবাস থামিয়ে দিবালোকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়।  চট্টগ্রামের শেরশাহ পলিটেকনিক এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে অংশ নিতে বাকলিয়াস্থ সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি বহদ্দারহাট পুকুরপাড় এলাকায় আসলে আরেকটি মাইক্রোবাস তাদের সামনে এসে গতিরোধ করে। গতিরোধ করার মুহূর্তের মধ্যে ব্রাশফায়ার শুরু করা হয়। গাড়ির ভেতরে লুটিয়ে পড়েন ছাত্রলীগের ছয় নেতা, তাদের মাইক্রোবাসের চালক ও একজন অটোরিকশার চালক।

২০১১ সালের ৬ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে  একে-৪৭ রাইফেলসহ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সরোয়ার ও ম্যাক্সনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে একসাথে তারা বন্দি ছিল।  কারাগারের ভেতরে কিংবা আদালতে কোথাও যাতায়াতের সময় তারা একই ডিজাইনের পোশাক (পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া) পরত। প্যান্ট এবং জুতাও পরত মিল রেখে। একজন অপরজনকে ফেলে কোন খাবার খেত না। ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন খানের  ২০০৬ সালে হাত ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে এসে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে সরওয়ার ও ম্যাক্সন। খুন, অস্ত্র, অপহরণসহ একাধিক ঘটনায় তারা চট্টগ্রামে ‘মানিক জোড়’ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। সে মানিক জোড়ের একজন সরওয়ারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলো পুলিশ।

কাতারে অবস্থান করেও বায়েজিদ থানা এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন সরোয়ার। ফোনে চাঁদা দাবি করতেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে নগরীর বায়েজিদ থানায় ছয়টি, পাঁচলাইশ থানায় তিনটি, চান্দগাঁও থানায় দুটি এবং ডবলমুরিং থানায় একটিসহ মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বিএনএনিউজ২৪.কম/এসজিএন

আরও পড়ুন

কমিউনিটি ক্লিনিক মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে

bnanews24

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে চট্টগ্রামে বিশেষ উৎসব-প্রতিমন্ত্রী খালিদ

bnanews24

করোনায় আরও ২৩ জনের প্রাণহানি

Osman Goni