bnanews24.com
Remove term: পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

নীরব-নিস্তব্ধ পতেঙ্গা সৈকত

।।মনির ফয়সাল।।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের অবস্থান। সৈকতপ্রেমী অনেকে বঙ্গোপসাগরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে এখানে আসেন। এই সৈকতকে ঘিরে হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া সৈকত ঘেঁষে তৈরি হয়েছে সাড়ে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আউটার রিং রোড।

তবে এবছর দুই ঈদেও চট্টগ্রাম নগরীর পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে তেমন পর্যটকের দেখা মিলেনি। প্রতিবছর ঈদে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকতো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। কিন্তু এ বছর আবাসিক হোটেল থেকে শুরু করে খাবার হোটেল, ঝিনুকের দোকান, কাকড়া ফ্রাইয়ের দোকানসহ পর্যটনমুখী ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসে আছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়। তাছাড়া করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে পর্যটকদের ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন।

পতেঙ্গা সৈকতের বর্তমান অবস্থা। জনমানব শূণ্য এলাকা।ছবি:টুটুল,বিএনএ

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, গত ২০ বছরের মধ্যে দুই ঈদের সময় পর্যটক শূন্য পতেঙ্গা সী বীচ তারা আর কখনো দেখেননি। প্রতিবছর ঈদের সময় পতেঙ্গা সৈকতে সাজসজ্জা ও আলোক সজ্জায় জলমল করতো। ঈদকে কেন্দ্র করে নাগরদোলা, নৌকা, বিভিন্ন রকম রাইড এর আসর বসতো। কিন্তু সেখানে এখন ঈদের দিন সন্ধায়ও ভূতুড়ে অবস্থা। চিরচেনা পতেঙ্গা সৈকত এখন যেন পতেঙ্গাবাসীদের কাছেই অচেনা লাগছে।

এছাড়া ঈদুল আজহার ছুটিতেও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের(সিএমপি)। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করে সিএমপি। ২৮ জুলাই সিএমপির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দিয়ে নগরবাসীকে বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় না করার জন্য বলা হয়। এছাড়া পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের প্রবেশমুখে ছিল পুলিশের ব্যারিকেড। অনেক পর্যটক ছুটির দিনে সৈকতে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের বাধা পেয়ে ফিরে আসেন। এ কারণে মূল বিচ ছিল পর্যটকশূন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকা পতেঙ্গা সৈকত প্রায়ই নিস্তব্ধ। সাগরপাড়ে দাঁড়িয়ে সম্মুখে শুধু পানি আর পানির দেখা মেলে। কোলাহল শূন্য সৈকতের গাছগুলোতে গজাতে শুরু করেছে নতুন নতুন ডালপালা।

ফাইল ছবি: বিএনএ-এক সময় সর্বদা মানুষে ভরপুর থাকতো এই সিবিচ

পতেঙ্গার স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস বলেন, ঈদে জনমানবহীন এমন সমুদ্র সৈকত গত ৩০ বছরেও দেখিনি। জনমানবহীন নেভাল ও সমুদ্র সৈকতে কুকুর আর গুটি কয়েক মানুষ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে পর্যটকদের ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করার ফলে ঈদে পর্যটক শূন্য হয়ে গেছে নগরের এই পর্যটন এরিয়া।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে সৈকত মানুষের দখলে থাকে। তখন মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণীর দেখা মেলে না। আর এখন পতেঙ্গা সৈকত এখন জনশূন্য। এই সৈকত এখন পশু-পাখিসহ প্রকৃতির দখলে।

ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ী নাছির বলেন, প্রতি বছর এমন ঈদে ভালো ব্যবসা করতাম। কিন্ত আজ নিয়তির নির্মম পরিহাসে স্থানীয়রা ছাড়া জনশূন্য পতেঙ্গা এলাকা।

ফাইল ছবি: বিএনএ-সমুদ্র থেকে বড় বড় জাহাজ দেখা যাওয়ায় এই সিবিচের প্রতি ছিল বিশেষ আকর্ষন

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে পতেঙ্গা সৈকত। চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত গাড়িতে করে সমুদ্রপ্রেমীরা এই সৈকতে ভিড় করেন। তখন আবর্জনা ও দূষণে সৈকত রুগ্ন রূপ ধারণ করে। তবে এই সৈকত এখন জনশূন্য থাকায় পরিবেশের জন্য সেটি ইতিবাচক হয়েছে। প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে নিজের রূপ।

পরিবেশবিদ ও বাংলাদেশ পরিবেশন আন্দোলনের (বাপা) সহ-সভাপতি ইদ্রিছ আলী বলেন, পতেঙ্গা সৈকতে একসময় অনেক পাথর ছিলো। সেগুলো কোনায় কোনায় বালি জমতো। সৈকত জুড়ে ছিলো বিভিন্ন উদ্ভিদ। অনেকগুলো গাছও ছিলো। সংস্কারের পর সৈকতের লতাগুলো হারিয়ে গেছে। পুরো এলাকায় সীমানা দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে। মানুষের দূষণের কারণে সৈকতের আগের রূপ হারিয়ে গেছে।

বিএনএনিউজ/এসজিএন

আরও পড়ুন

রাঙামাটিতে মরদেহ উদ্ধার

Osman Goni

পলাশবাড়ীতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে দুর্নীতি

JewelBarua

ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে যেখানে এগিয়ে বাংলাদেশ

showkat osman