bnanews24.com

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা

বিএনএ,ঢাকা: আজ শনিবার(১ আগস্ট) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছাস থাকার কথা তা এবার ম্লান করে দিয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও দেশব্যাপী ভয়াবহ বন্যা। অনেকের ঈদ আনন্দ ভেসে গেছে বানের পানিতে।

এবার করোনা ভাইরাসের কারণে উম্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদ জামাত।জামাত শেষে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় সামর্থ অনুয়ায়ি পশু কোরবানি দিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তবে এবার করোনা ও বন্যার মতো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ভিন্ন পরিবেশে কোরবানির ঈদ হওয়ায় অন্যান্য বারের চেয়ে পশু কোরবানি কিছুটা কম।

কোরবানির পশুর রক্ত বা বর্জের কারণে যাতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয় সে বিষয়ে ঢাকাসহ দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।সেইসঙ্গে সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।এজন্য সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এবার ঈদের ছুটি ৩ দিন ঘোষণা করেছে সরকার। ঈদ উপলক্ষে গতকাল ৩১ জুলাই, ১ আগস্ট শনিবার ঈদের দিন এবং ২ আগস্ট রোববার ছুটি থাকবে। এবারের ঈদের ছুটির সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাধ্যতামূলক কর্মস্থলে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে, মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করছে। পাশাপাশি জাতীয় কর্মসূচীর আলোকে সারাদেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সরকারি সংস্থাসমূহের প্রধানগণ নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদ উদযাপন করছেন।এ উপলক্ষে সারাদেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় চার হাজার বছর আগে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)’কে কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে বিশ্বব্যাপি মুসলিম সম্প্রদায়। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত।

পবিত্র হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে বিশ্ব মুসলিম ময়দানে নামাজ আদায়ের পর যার যা সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। আরবি আযহা এবং কোরবান উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ। কোরবানি শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা, অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া প্রভৃতি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে (মুসনাদে আহমদ)।

আল কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, অতএব, তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।

সুরা হাজ্জে বলা হয়েছে, এগুলোর (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়। আল্লাহর বান্দারা কে কতটুকু ত্যাগ ও খোদাভীতির পরিচয় দিতে প্রস্তুত এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন তিনি তা-ই প্রত্যক্ষ করেন কেবল। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

বিএনএনিউজ/আর করিম চৌধুরী, এসজিএন

আরও পড়ুন

আজ ঢাকা আসছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল

RumoChy Chy

স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর পোস্টার, যুবক গ্রেফতার

zulfiqur

দেওয়ানহাটে মিলাদুন্নবী(স.) মাহফিল

bnanews24