bnanews24.com
মুনিরীয়া ভণ্ডামি,কাগতিয়া দরবার

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১০ ( রাসুল (স:) সঙ্গে দৈনিক সাক্ষাৎ!

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ‘কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ’। এ দরবারকে ঘিরে গঠিত হয়েছে ‘‌মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’। দু’টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ সৈয়দ তফজ্জল আহমদ। তিনি পবিত্র কুরআন ও হাদীস বিষয়ে  বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এলাকার মানুষকে নামায কায়েম, রোজা, হজ্ব পালন ও জাকাত প্রদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানাতেন। ধর্ম নিয়ে কোন ধরনের গোঁড়ামি, অলৌকিক ক্ষমতার জাহির, প্রচার কোনটাই করেননি।

সৈয়দ তফজ্জল আহমদ এর তিন সন্তান থাকলেও বড় দুই সন্তানকে দরবার থেকে বিতাড়িত করেন কনিষ্ঠপুত্র মুনিরউল্লাহ আহমদী। শায়খ তফজ্জল আহমদ শয্যাশায়ী হয়ে পড়লে তিনি (মুনিরউল্লাহ) নানা বিতর্কিত, মনগড়া অলৌকিক কেরামত প্রচার করতে থাকেন। সফলও হয়েছেন। এখন মুনিরউল্লাহ আহমদী স্বনামে-বেনামে শতকোটি টাকার মালিক! কী ছিল মুনিরীয়ার দর্শন? কে, কখন, কোথায়, কীভাবে, কাদের কাছে অলৌকিক কেরামত প্রচার করতেন মুনির উল্লাহ আহমদী ও তার সহযোগীরা? তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ)। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে কথিত‘‌‌মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’তথা মুনিরউল্লাহ এর ভণ্ডামির নানা তথ্য। বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ)’র হেড অব নিউজ ইয়াসীন হীরা’ অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশিত হলো মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১০ পর্ব

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি মুনিরউল্লাহ ও মহাসচিব মোহাম্মদ ফোরকান মিয়া যোগসাজসে ভণ্ডামির কেরামতি সমূহের পরিকল্পনা করা হতো। ভণ্ডামির বেশীরভাই নবী ও রাসুল (স:)কে নিয়ে। বাংলাদেশের বেশীরভাগ সুন্নী মুসলমান। প্রচলিত রয়েছে যে বাংলাদেশের সুন্নীরা মাজার, পীর ও দরবার ইত্যাদির প্রতি বেশী বিশ্বাস রয়েছে। সেকারণে সুন্নীরাই তাদের টার্গেট। কাগতিয়ার পীর ও দরবারের অনুসারি করতে এহেন ভন্ডামির আশ্রয় নিয়েছেন মুনিরউল্লাহ-ফোরকান সিন্ডিকেট। এ ভণ্ডামির উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন। যা দিয়ে তারা বিলাসী জীবন-যাপন করতেন, এখনো করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সুন্নি শব্দের উৎপত্তি সুন্নাহ শব্দ থেকে যা দ্বারা ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্মকে বুঝায়। অধিকাংশ সুন্নি আইনজ্ঞরা নিজেদের সুন্নি আইনের চারটি ঘরানার (হানাফি, মালিকি, শাফিয়ি, হানবালি) যে কোনো একটির অনুসরণ করেন। এর বাইরেও কয়েকটি সংখ্যালঘু সুন্নি মাযহাব রয়েছে।সুন্নি মুসলিমরা ইসলাম অনুসারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্প্রদায়। সুন্নিরা আরো পরিচিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াত; সংক্ষেপে আহল আস-সুন্নাহ ‎‎‎ নামে।নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবিত অবস্থায় সুন্নি বা শিয়া বা অন্য কোনো নামে কোনো সম্প্রদায় ছিল না। সুন্নিরা ইসলামের সেই অংশের প্রতিনিধিত্ব করে যারা নবি মুহাম্মদের মৃত্যুর পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত খলিফা আবু বকরকে মেনে নিয়েছিল। তাই প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায় ( খিলাফত) নির্বাচন বা ‘শুরা’ সুন্নি ইসলামের একটা বড় বৈশিষ্ট্য। এ খিলাফতের একটি তকমা লাগাতেই একটি প্রতারণামূলক কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়। মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের দাবি শায়খ তফজ্জল আহমদ ২০০৩ সালের ২ জুলাই মদীনায় নবীর রওজার খেলাফতের অনুষ্ঠান হয়েছিল।(যা মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৮ পর্বে প্রকাশ করা হয়।

এরপরের ঘটনা আরো ভয়াবহ। যা ২০০৯ সালে আরেক কেরামতের মাধ্যমে শেষ হয়। এর বিস্তারিত মুনিরীয়া যু্ব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ প্রকাশিত ‘আল হাবীবু মা’আল হাবিবে ফিল ইসরা’ নামের বিশেষ স্মরণিকায় প্রকাশ করা হয় ৯৯ পৃষ্ঠা থেকে ১০১ পৃষ্ঠায়।

এতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই বাদে আসর ফয়েজে কোরআনের পর হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (র:) (তফজ্জল আহমদ)এর দৌহিত্র ছৈয়দ রহিম উদ্দীন(যোবাইর) ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়ার উপস্থিতিতে তার একমাত্র খলিফা ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহকে তাঁর পিতা শায়খ তফজ্জল আহমদ হুজুরা শরীফে ডেকে নিয়ে সকল তরিক্বতপন্থীকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন ‌‘আজ থেকেই মাগরিবের ফাতেহা শরীফ ও ফজরের খতম শরীফের সওয়াব সরাসরি হুজুর পাক(স:) রুহ মোবারকে বখশিস করবে এবং এ সুসংবাদ টেলিফোনের মাধ্যমে মাগরিবের পূর্বেই মদীনা শরীফে অবস্থানরত আমার তরিক্বতপন্থীদের জানিয়ে দাও’।

এরপর লেখা হয়, বিগত ২ জুলাই ২০০৩ সাল মদীনা মোনাওয়ারায় রওজা আকদসের সোনালী জালী মোবারকের সামনে অলৌকিকভাবে সংগঠিত ঘটনার মূল রহস্য গাউছুল আজম(র:)বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায় ‘আমাকে (তফজ্জল আহমদ) রাসূল পাক(স:)বাইয়াত করানোর জন্য মদীনা মোনাওয়ারায় রওজা আকদসে ডেকে নিয়েছেন। তাই আমি ২০০৩ সালে ওমরা পালন এবং তা শেষ করে জিয়ারতে মোস্তাফা আদায় করতে নবী (স:)’র রওয়াজা শরীফে গিয়াছিলাম’।

প্রসঙ্গত: উল্লেখিত ঘটনা সম্পর্কে শায়খ তফজ্জল আহমদ বরাত দেয়া হলেও তিনি এ ধরনের কোন বর্ণণা কাউকে বলেননি, এ সম্পর্কে কোন এশায়েত সম্মেলনে বা মুরিদদের বলেননি। তার ছেলে মুনির উল্লাহ আহমদীই তা বিভিন্ন ক্রোড়পত্র বুলেটিন,স্মরণিকা, পুস্তকে এবং এশায়েত সম্মেলন, এশায়েত সেমিনার, এশায়েত মাহফিলে নিজে এবং ভাড়াটে লোকজনকে দিয়ে প্রচার করেছেন।

একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মুনিরীয়ার পীর তফজ্জল আহমদের ক্ষমতার বয়ান করতে গিয়ে মাওলানা আশেকুর রহমান মুনিরীয়ার মুরিদদের এক সমাবেশে বলেছেন নবী ও রাসুল মোহাম্মদ মোস্তফা (স.) এর সঙ্গে তার পীরের দৈনিক একবার স্বাক্ষাৎ হয়! নবী ও রাসূল (স:)কেচর্ম চোখে দেখেন। যখন তার দেখার ইচ্ছা হয়, তখন তিনি (তফজ্জল আহমদ) নবী ও রাসূল(স:)তার সামনে হাজির হন। মুনীরিয়া পীরের অনুসারি হলে ইমানহীন অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে না।মাওলানা আশেকুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তাদের অনুসারিদের আখেরাতে (পরকালে) কী হবে তার জন্য দুনিয়ার কোন আলেম-মওলানাকে চিন্তা করতে হবে না। এ ব্যাপারে ১৪০০ বছর আগে রাসুল (স:) এর সমাধান দিয়ে গেছেন!

আরো একটি জঘন্য ভণ্ডামির চিত্র পাওয়া যায় মুনিরীয়া যু্ব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ প্রকাশিত ‘আল হাবীবু মা’আল হাবিবে ফিল ইসরা’ নামের বিশেষ স্মরণিকায় ১২৪ পৃষ্ঠায়। সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, মৌলবী বাজার, সিলেট (প্রবাসী শাহানিয়া কাতার) এর বরাত দিয়ে “প্রিয় নবীর সাথে গভীর সম্পর্কের বাস্তব প্রমাণ” শিরোনামে লেখা হয় ২০০৯ সালে পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ্ পালন শেষে মদীনা শরীফ এসে নবীর রওজা পাক জিয়ারত করেন। ‌“নবীজীর কদমে আরজ করলেন, ওহে হায়াতুন্নবী (দ:) আমাকে এমন একজন পীরের সন্ধান দিন, যার সাথে আপনার সরাসরি সর্ম্পক আছে’’।

এই আরজি পেশ করে তিনি তাঁর কর্মস্থল শাহনিয়া চলে যান। এরপর মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ, কাতার শাখার একটি মাসিক মাহফিলে হযরত শায়খ গাউছুল আজম (তফজ্জল আহমদ মুনিরী)এর একজন তরিকত্বপন্থী তাকেঁ দ্বীনি দাওয়াত দেন এবং গাউছুল আজমের তরিক্বত গ্রহণ করার অনুরোধ করেন। এতে নুরুল ইসলাম বুঝতে পারলেন কাগতিয়ার গাউছুল আজমের সঙ্গে নবী ও রসুল (স:) হয়রত মুহাম্মদ মোস্তফা এর সঙ্গে সরাসরি সর্ম্পক রয়েছে! কাল বিলম্ব না করে তিনি কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবারে এসে তরিক্বত গ্রহণ করেছেন। এভাবে সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে তাদের ইমান,আকিদা নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় মেতেছে মুনিরীয়া যু্ব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ।

আগামীকাল প্রচারিত হবে পর্ব -১১

আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন :
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৯ (তাজে গাউছিয়্যত )

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৮(খেলাফতের স্বাক্ষী যারা)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৭(ভ্রান্ত যত মতবাদ)

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৬

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৫

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৪
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৩
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-২
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-১

আরও পড়ুন

১৯ কোটি টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ

bnanews24

নৌ পথে মাদক পাচারের চেষ্টা

bnanews24

লেভান্তের বিপক্ষে জয় পেল বার্সেলোনা

RumoChy Chy