bnanews24.com
বিএনএনিউজ২৪.কম/ পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী সম্পাদনায় : আবির হাসান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ১৯৯

রাজধানীর একটি জায়গা দখল করা হবে যা স্বাধীনতার পর এক্সিকিউশনে রাখা হবে

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে  স্বাধীনতার সঠিক  ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫ খণ্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ।

আজ প্রচারিত হলো  পর্ব : ১৯৯

ঘ) চিনি নিয়ন্ত্রণ সেকশন। অধস্তন  কর্মকর্তা (১) আঞ্চলিক পরিচালক, খাদ্য, ঢাকা ও রাজশাহী অফিসের কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ নিম্নলিখিত কাঠামোর জন্য দায়ীবদ্ধ : ১. কৃষিখাত । ২. কৃষি গবেষণা, শিক্ষা এবং এক্সটেনশন। ৩.পশুপালন ও মৎস্য চাষ এবং বনায়ন। ৪. ফল এবং সবজি জাতীয় পণ্যের ইন্ডাস্ট্রি। ৫. কৃষি অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান ৬. কৃষি উন্নয়ন।

৭. ইউ এন এবং আন্তর্জাতিক কৃষি ক্ষাতের অন্যান্য খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সাথে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সাহায্য বিষয়ক মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন। ৮. প্রকিউরমেন্ট ও সার বিতরণ। ৯.কৃষি বিপনন। ১০.সমন্বয়। ১১. ভূমি পুনরুদ্ধার। ১২. টিউবওয়েল ও ক্ষুদ্রসেচ। ১৩. মাটি সংরক্ষণ। কৃষিখাত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর কিছু একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।

১.কৃষি উৎপাদন : খাদ্যে নুন্যতম অর্ধ স্বয়ংসম্পূরন হতে ক্রমবর্ধমান জনগণের খাদ্যৎপাদনের জন্য আরও সবল প্রচারণা স্বাধীনতার অবিলম্বেই শুরু করতে হবে। এটা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে

রাজধানীর যেকোনো একটি জায়গা দখল করা হবে যা স্বাধীনতার পর এক্সিকিউশনে রাখা হবে। খাদ্য প্রযোজনা পরিকল্পনার পুরো অবস্থানের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যত্নশীল মূল্যায়ন করা হবে। বন্যার্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া আবশ্যক এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করতে হবে। পরিমিত মাত্রায় অনুরূপ একটি কর্মসূচি যুদ্ধ বিদ্ধস্ত এলাকাগুলোতে চালু করা যেতে পারে।২. কৃষি গবেষণা, শিক্ষা ও সম্প্রসারণ। গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেবা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। ৩.কমোডিটি কমিটি। গবেষণা ও কৃষি ক্ষেত্রে এক্সটেনশন বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কমিটিকে এই উদ্দেশ্যে অনুদান করতে হবে। ৪. বাংলাদেশ জুট কমিটি। গবেষণা ও সম্প্রসারণ পরিষেবা হলো পাট ক্ষাতের একটি কার্যক্রম যা একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

৫.একইভাবে তামাক, নারিকেল, সুপারি, তৈলবীজ, ইত্যাদি বিষয়ক কমিটি একই উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হবে। ৬. বাংলাদেশ চিনি কমিটি। ৭.বাংলাদেশ টোব্যাকো কমিটি। ৮. কৃষি সম্প্রসারণ। ৯. পশুপালন, কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন। ১০. কৃষি অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান। ১১. কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। ১২. জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে কারিগরী ও অর্থনৈতিক এইড এবং কৃষিখাতে মৈত্রীচুক্তি সম্পাদনা।১৩. প্রকিউরমেন্ট ও সার বিতরণ। ১৪.কৃষি বিপনন। ১৫.সমন্বয়। ১৬. ভূমি পুনরুদ্ধার।১৬ নলকূপ ও ক্ষুদ্রসেচ। সংযুক্ত অফিস: ১. কৃষি গবেষণা বাংলাদেশ কাউন্সিল….. ক) গভর্নিং বডি খ) স্থায়ী ফাইন্যান্স কমিটি গ) উপদেষ্টা পরিষদ। ঘ) গবেষণা পরিষদ বোর্ড।ঙ) বৈজ্ঞানিক কমিটি। চ) আঞ্চলিক কমিটি। ২. অর্থনীতি অধিদপ্তর এবং বিপনন পরিসংখ্যান ৩.অধিদপ্তর এবং ইন্সপেকশন। ৪. কাউন্সিলর নিম্নরূপ অঙ্গের মাধ্যমে কাজ করবে। উদ্ভিদ সুরক্ষা, এবং দ্বিঘাত সংগ্রহস্থল সম্প্রসারণ। ৫.অধিদপ্তর ও প্রশিক্ষণ। ৬. সকল প্রাদেশিক অধিদপ্তর এই পরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অধস্তন কর্মকর্তা: ১. বাংলাদেশ ভেটেরিনারী রিসার্চ ইনস্টিটিউট ২. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট. ঢাকা ৩. জাতীয় ডেইরি গবেষণা ইনস্টিটিউট

৪ সামুদ্রিক মৎস গবেষণা স্টেশন।

৫ আভ্যন্তরীণ মৎস গবেষণা স্টেশন

৬ গভীর সমুদ্র মৎস গবেষণা স্টেশন।

৭ মৎস প্রযুক্তি গবেষণা স্টেশন।

৮ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

৯ আলু গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

১০ পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

১১ ইক্ষু প্রজনন প্রতিষ্ঠান।

১২ ইক্ষু গবেষনা প্রতিষ্ঠান ,রাজশাহী।

১৩বাংলাদেশ যান্ত্রিকিকরণ ফার্ম।

১৪ চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

১৫ অনুসন্ধানমুলক টিউব ওয়েল সংস্থা।

১৬ বন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

১৭ ঢাকা প্রাণিবিদ্যা বিষয়ক উদ্যান।

১৮ মৃত্তিকা সংরক্ষণ কেন্দ্র।

 

     রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারাবদ্ধ

 

১ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন

২ বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন

৩ বাংলাদেশ বন উন্নয়ন কর্পোরেশন।

.

(৫) পাট মন্ত্রণালয়

পাট বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান গুরুত্বপূর্ন স্থান দখল করে আছে।এটি তার অর্থনীতির প্রধান অবলম্বন।এটি সবচেয়ে বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী।এর গুনাবলী দ্বারা ,এটি পূর্নাংগ মন্ত্রনালয় এর দাবি রাখে।

 

সামরিক/প্রতিরক্ষাউৎপাদন শাখা

প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে, এবং প্রতিরক্ষাউৎপাদনের কন্ট্রোলার জেনারেলকে বিভাগীয় প্রধান করে সেখানে একটি সামরিকউৎপাদন বোর্ড থাকবে। বোর্ডের বাকি সদস্যরা বাংলাদেশ সরকারের তিনটি সেবার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হবে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, ডিরেক্টর-জেনারেল, তোপ কারখানা, বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা। সামরিকউৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় সেবা গবেষণা সমন্বয়, উন্নয়ন, এবং ক্রিয়াকলাপ পরিকল্পনা বোর্ডের প্রধান কাজ।

 

সামরিক  উৎপাদনের কন্ট্রোলার জেনারেল

সামরিক উৎপাদন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী এবং সংগঠনের বিভাগীয় প্রধানই সামরিক উৎপাদনের কন্ট্রোলার জেনারেল এবং সমন্বয় এবং সামরিক উৎপাদন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং উৎপাদন প্রভাব পরিচালনা তার সামগ্রিক দায়িত্ব। সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত উন্নয়নও তার অধীনে আসবে।

 

সেনাবাহিনী সদরদপ্তর

সেনাবাহিনী সদরদপ্তর সরাসরি সেনাবাহিনী প্রধানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এটি নিম্নলিখিত প্রধান শাখায় বিভক্ত হতে পারে যা পুনরায় অধিদপ্তরে বিভক্ত হবে: (১) সাধারণ কর্মচারী শাখা। উক্ত শাখা, সাধারণ কর্মচারী প্রধানের অধীনে, সেনাবাহিনীর নীতি, সেনাবাহিনী কার্যক্রম, গোয়েন্দা, সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা, সংগঠন এবং সেনাবাহিনীর আন্তঃযোগাযোগ সেবা এবং নতুন অস্ত্র ও যন্ত্রপাতির পরীক্ষণের সাথে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক বিষয় কারবার করবে।, (২)অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল শাখা। লোকবল সংগ্রহ এবং সংগঠনের সাথে সম্পর্কিত বিষয়ের জন্য উক্ত শাখা দায়ী থাকবে; অবকাশ, উৎপাদনের সংক্রান্ত সাধারণ নীতি

২ এডজুনেন্ট জেনারেল’স ব্র্যাঞ্চ।এই শাখা জনশক্তি,নিয়োগ এবং সংস্থা,ছুটি সংক্রান্ত সাধারন নীতিমালা,উতপাদন,বর্ননামূলক,বেতন-ভাতা এবং অবসরকালীন ভাতা,সাধারন কল্যানভাতা,মনোবল,স্বাস্থ্য,সামরিক আইন এবং সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের জন্য বেতনভাতার জন্য বাজেট বরাদ্দ ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ের দায়িত্বে থাকবে।

৩ কোয়াটার মাস্টার জেনারেল’স ব্র্যাঞ্চ।এই শাখা সকল কর্মচারীর চলাচল,গুদাম,সাজসরঞ্জাম বিধান,খাদ্য সামগ্রী এবং গুদামজাতকরন সংক্রান্ত বিষয় এবং তদন্ত,কর্ম পরিকল্পনা,সেনাবাহিনী এবং এই সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য আবাসস্থল,সামরিক ফার্মের জন্য প্রশাসনিক ভবন,নতুন করে ঘোড়া সরবারহ করা এবং পশু চিকিৎসা সেবা,সেনাবাহিনী ডাক এবং ক্যান্টিন সেবা,অগ্নিনির্বাপন সেবা,এম ই এস কাজের বিলের জন্য প্রজুক্তিগত পরীক্ষা এবন কিউ সাধারন নাগরিকদের জন্য প্রশাসনিক সেবা সংক্রান্ত বিষয়ের দায়িত্বে থাকবে।

৪ মাষ্টার জেনারেল অফ অর্ডিনেন্স ব্র্যাঞ্চ।এটি দেখভাল করবে বিধান,গুদাম,মেরামত, রক্ষনাবেক্ষন এবং গোলা সংরক্ষনের বিষয় সংক্রান্ত এবং এম টি যানবাহনের উপকরন,যুদ্ধোপকরন এবং গুলি,সিগনাল সংক্রান্ত সাজসরঞ্জাম,সেনাবাহিনীর সকলের জন্য একটি দোকান এবং বস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়।

৫ প্রধান প্রকৌশলীর শাখা। এটির দায়িত্বে থাকবে

ক নকশা,সকল আবাসস্থল নির্মান এবং রক্ষনাবেক্ষন ও এয়ারফিল্ডের ডক নির্মান,সামরিক রাস্তা,পানি সর্বরাহ,বিদ্যুত এবং আলো সরবরাহ, রেফ্রিজারেশন এবং আসবাবপত্র সহ তিনটি সেবার জন্য কাজ করবে।

খ ইঞ্জিনিয়ার ইউনিট স্থাপন যাতায়াত ব্যাবস্থা সহ,বোমা নিস্ক্রিয় এবং মাইন নিস্ক্রিয় ইউনিট,তাদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষন,সংস্থা,প্রশাসনিক ব্যাবস্থা ঃ অপরাশেনাল পরিকল্পনা এবং গোয়েন্দাবৃত্তি।

গ গবেষণ,নকশা এবং প্রকৌশল উপকরণ এর জন্য উন্নয়ন, প্রকৌশল প্ল্যান্ট,বিস্ফোরক ধ্বংসকরন,এম ই এস সহ মাইন ডিটেকশন উপকরন সংগ্রহ।

ঘ আহরণ,অধিষ্ঠিত এবং প্রকৌশল ভান্ডার বিতরণ(পরিবহন ভান্ডার সহ). এম ই এস কর্মচারীদের এবং ইঞ্জিনিয়ার কোরের প্রশাসনিক ব্যাবস্থা

৬ সামরিক সচিবের শাখা।এটির দায়িত্ব হবে  সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রদান,পোস্টিং,বদলি,পদন্নতির ছাড়পত্র, অবসর,পদত্যাগ, সেনাবাহিনীর সমস্ত নন মেডিকেল অফিসারদের বাতিলকর।এটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে গোপন প্রতিবেদন এবং সেনাবাহিনীর সমস্ত নন মেডিকেল অফিসারদের ব্যাক্তিগত রেকর্ড সংরক্ষন এবং অফিসারদের উচ্চ পদে পদোন্নতির সুপারিশের জন্য সচিবালয়কে সরবরাহ করা। এই শাখা আরো প্রদান করবে সম্মান এবং সাধারণ নাগরিকদের থেকে সেনাবাহিনীকে পুরস্কার প্রদান।

আদেশ এবং অঞ্চলঃ

সেনা সদর দপ্তরের অধীনে,সেনাবাহিনী তার কমান্ডের অধীনে সংগঠিত হচ্ছে,লে. জেনারেল পদমর্যাদার প্রত্যেকে একজন জি ও সি এর দায়িত্বপালন করবে। কমান্ড এরিয়া ভিত্তিক ভাগ হবে,একজন জি ও সি এর কমান্ডের অধিনে প্রত্যেক মেজর জেনারেল পদমর্যাদার এবং তাদের এরিয়া ভাগ হয়ে যাবে প্রত্যেক বিগ্রেডিয়ারের অধীনে সাব এরিয়াতে।এটি একটি অপরিবর্তনীয় সৈন্যবিন্যাস,কার্যক্রমপরিচালনারকারীসকলসংগঠনকমান্ড,এড়িয়া,সাব-এড়িয়াআর্মি,ডিভিশনএবংব্রিগেডেরকাছেদায়বদ্ধথাকবে।একটিসক্রিয়প্রতিষ্ঠানেরগঠনঅনুযায়ীসেনাসদরদপ্তরনিয়ন্ত্রণওআদেশদিয়েথাকেদুইবাততোধিকডিভিশনকে।

নৌ সদরদপ্তর

নৌ সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রন করবে প্রশাসনিক এবং সব জাহাজের অপারেশন এবং স্থাপনা।এই সংস্থার প্রধান হবে নৌবাহিনীর প্রধান।তার অধীনে চারজন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার থাকবে এবং নৌ সচিব যেভাবে নিচে দেখান হলঃ

 

১ নৌ কর্মচারীদের উপ প্রধান।সে অপারেশনের সাথে জড়িত সকল কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকবে, পরিকল্পনা,চলাচল,গোয়েন্দাবৃত্তি,নিরাপত্তা,যোগাযোগ,জলভাগের মানচিত্র,প্রকাশনা এবং প্রচারনা,পরিসংখ্যান এবং প্রকল্প।পাশপাশি,নৌবাহিনীর উপ প্রধান এই কাজের উপ সমন্বয়কারী থাকবে নৌ সদর দপ্তরের অন্য শাখার এবং নৌবাহিনী প্রধানের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্বপালন করবে।

 

২ চিফ অফ পার্সেনোল।সে নিয়োগ,চাকরির শর্ত,প্রশিক্ষন,কল্যানভাতা এবং নৌ কর্মচারীদের শৃঙ্খলা,কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং ফ্লিট কে সাধারনভাবে দৃঢ় করার দায়িত্বে থাকবে।পাশাপাশি সে শিক্ষা,চিকিৎসা খাবারসরবরাহ, এবং ,পরিশোধ,অবসর এবং ভাতা।

 

৩ চিফ অফ ম্যাটেরিয়াল।সে জাহাজের ব্যবস্থাপনা,অস্ত্র এবং উপকরন,ডকইয়ার্ডের সুবিধা এবং তাদের অর্জনের সংস্থান ও জাহাজ নির্মাণ এবং উৎপাদন ও নৌ গুদামের সংস্থাপন।পাশপাশি সে নোবাহিনীর যুদ্ধোপকরন সরবরাহ এবং অর্ডিন্যান্স তদন্ত সংস্থা ও বৈজ্ঞানিক গবেষনার জন্য এবং উন্নয়নের জন্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

 

৪ নৌবাহিনী এভিয়েশনের প্রধান।তিনি সাধারন নির্দেশনা এবং নৌবাহিনী্র সমস্ত বিমান বিষয়ক সমন্বয় পরিকল্পনা প্রনয়ন সহ,কর্মচারী এবং উপাদানবাচক দৃস্টিভঙ্গি ও প্রশিক্ষনের মহরার ক্রিয়াকর্মের উপর নিয়ন্ত্রন এবং নৌবাহিনী বিমান ইউনিটের প্রশাসনিক দায়িত্বের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

৫ নৌবাহিনী সচিব।নৌবাহিনী সচিব সচিবালয়ের প্রধান এবং একই সাথে নিয়োগ সংক্রান্ত সকল আসবাব,চাকরির শর্ত,কল্যানভাতা এবং  বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বেসামরিক লোকদের শৃঙ্খলা,বাজেটের সমন্বয়ের জন্য, সংস্থাপনের বিষয়ের জন্য,চিঠি,গোপনীয় বই,এবং রেকর্ড সংরক্ষনের দায়িত্বের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

 

সমস্ত জাহাজ মাইন অপসারনের জন্য চালু থাকবে এবং জরিপ জাহাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্ল্যাগ অফিসার(ফ্লোটিলা) এর নিয়ন্ত্রনে থাকবে।চট্রগ্রাম এবং খুলনাতে একজন কমান্ডার ইন চার্জ থাকবে, যে সমস্ত উপকূ্লের কাছে এবং দূরে নৌবাহিনীর স্থাপনা নিয়ন্ত্রন করবে।

বিমান সদর দপ্তর

বিমান সদর দপ্তর বিমান বাহিনী প্রধানের অধীনে থাকবে।যিনি আদেশ,শৃংখলা,অপারেশন,প্রশিক্ষন,বিমান বাহিনীর সক্ষমতার জন্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।বিমান সদর দপ্তর তিনটি প্রধান শাখা নিয়ে গঠিত হবে,প্রত্যেকটি একজন প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার এয়ার ভাইস মার্শাল অথবা এয়ার কমোডর পদমর্যাদার দায়িত্বে থাকবে।

(১) বিমান কর্মচারী শাখা।এই শাখা বিমান বাহিনীর উপপ্রধানের(ডি সি এস এস) দায়িত্বে থাকবে,যিনি বিমান সামগ্রীর বিষয় নিয়ন্ত্রন করবেন। ডি এ সি এস অপারেশনাল ইউনিটের ক্ষিপ্রতা এবং দক্ষ ক্রিয়াকর্মকান্ড, ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য বিমান কর্মচারীদের পরিকল্পনা এর দায়িত্বের জন্য নিয়োজিত থাকবে।তিনি আরো নিশ্চিত করবেন সিগানলের এবং গোয়েন্দা নিয়োগ যেন প্রতিরক্ষার জন্য উপযোগী হয় এবং এটি ঐ নিয়ন্ত্রন এবং প্রস্তুতির বিধান   তাদের বেতন এবং জীবন যাত্রার মান হতে হবে তাদের যোগ্যতা, গুরুত্ব এবং আজকের এবং আগামীর প্রশাসনে তাদের প্রয়োজনীয়তার সমতূল্য। তাদের মধ্যকার তিক্ততা এবং বিরক্তভাব উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করছে। উদাহরণ দিয়ে বললে, একজন বিজ্ঞানী অথবা একজন ইঞ্জিনিয়ার অথবা একজন ডাক্তার কে তার স্ব স্ব ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রানালয়ে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ন সচিব, সহকারী সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া উচিৎ। জনপ্রশাসনের আর্ট এন্ড সাইন্স সম্পর্কে তাকে তার ক্যারিয়ারের যথাযথ সময়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিৎ।

বৈজ্ঞানিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত যেসকল সুবিধাদি বর্তমানে রয়েছে =

১) বৈজ্ঞানিক বেসামরিক প্রশাসন

২) ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশাসন

৩) চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য প্রশাসন

৪) বন অধিদপ্তর

৫) প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ

৬) ভূতাত্ত্বিক বিভাগ

এই সকল বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক চাকরির সুযোগ বাড়বে এবং তাদেরকে তাদের দক্ষতা এবং দায়িত্ব অনুযায়ী একটি একক গ্রেডিং পদ্ধতিতে তাদের পে-লেভেলকে ভাগ করতে হবে এবং সঠিক গ্রেড সেই সকল বিভাগের বিশ্লেষকরা নির্ধারণ করবেন। তারা যেকোন একটি বৈজ্ঞানিক প্রশাসনের সাথে যুক্ত থাকবে যা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হবে এবং একটি গ্রেডের অধীনে থাকবে যা বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক প্রশাসন নামে পরিচিত। তাদের বেতন হবে বাংলাদেশ জনপ্রশাসনে তাদের সমপদের সমান। এই দুই শ্রেণীর পে-স্কেলের কোন তফাত থাকবে না। এখানে “ফুলটন কমিটির” কথা উল্লেখ্য যারা ব্রিটেনের জনপ্রশাসনের জন্য একই প্রস্তাব করেছিলেন। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে – “আমরা বৈজ্ঞানিক অফিসার, প্রযুক্তিবিদ এবং বৈজ্ঞানিক সহযোগী এবং এই কাজে দক্ষ, ইঞ্জিনিয়ার এবং তৎসংশ্লিষ্ট এওং আর্কিটেক্ট এবং নকশাকারদের এতে যুক্ত করার প্রস্তাব জানাচ্ছি।“

বাংলাদেশ শিক্ষা প্রশাসন

যেহেতু শিক্ষা সরকারের অন্যতম একটি গুরুত্তপূর্ণ দায়িত্ব, তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে করে যাতে করে বর্তমানের চৌকস ছেলে এবং মেয়ে এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের পে-স্কেল এবং অন্যান্য সুবিধাদি এমন হতে হবে যাতে করে তারা জাতিকে তাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারে। নিশ্চয় বলে দিতে হবে না যে জাতির ভবিষ্যৎ তাদের হাতে। উপরে বর্ণিত বেসামরিক কর্মচারী, সাধারণ এবং বিশেষজ্ঞদের পে-স্কেলের সাথে তাদের মিল থাকতে হবে।

(গ)প্রতিরক্ষা কেন্দ্রীয় সদরের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

(২)অস্ত্র-কারখানার সাধারণ পরিচালকের দপ্তর।

অস্ত্র-কারখানার প্রধান পরিচালক দ্বারা অস্ত্র-কারখানা পরিচালিত হবে।

(৩)বাংলাদেশ বিদ্যুৎ।প্রতিরক্ষা সচিব পরিচালকমণ্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হবেন।প্রতি দিনকার প্রশাসন পরিচালনার জন্য একজন সার্বক্ষণিক পরিচালন অধিকর্তা থাকবেন।এই কারখানা সরকারের প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক বিভাগের জন্য তারবিহীন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করবে।

(৪)প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সংস্থা।

এই পরিচালনা অধিদপ্তরের দায়িত্ব হবে প্রযুক্তিগত গবেষণা,নকশা উন্নয়ন,পরিদর্শন, সকল অস্ত্রের প্রযুক্তিগত পথানুসরন ও পরিবর্তন,বারুদ,A & B যানবাহন,প্রকৌশল গুদাম,ইলেকট্রনিক্স,সাধারন গুদাম ও বস্ত্র এবং নির্দিষ্ট ঔষধের দোকান।প্রধান ব্যবসায় হবে অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের যাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা যায়।

(৫)বিজ্ঞান প্রতিরক্ষা সংস্থা।

বাংলাদেশ সরকার কে জাতীয় শারীরিক পরীক্ষাগার,বাংলাদেশ নৌ রাসায়নিক ও ধাতুবিদ গবেষণাগার,এবং মানসিক গবেষণা ইউনিট এর-ও উন্নয়ন করতে হবে।

(৬)জাতীয় রণশৈক্ষবাহিনী পরিদপ্তর।এই পরিদপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং সামরিক সেনাপতি এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

(৭)সামরিক ভূমি ও সেনাবাহিনীর দায়িত্ব।

(ক)সামরিক ভূমি ও সেনাবাহিনীর পরিচালক,বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর সকল ভিতর ও বাইরের সামরিক ভুমির দায়িত্বের প্রধান হবেন।প্রতিরক্ষা কাজের জমি ও ভবনের লিখিত ফরমাশ ও অধিনিগ্রহণের জন্য তিনি দায়বদ্ধ থাকবেন।

(খ)ভুমি,মজুরি ও নিষ্পত্তি।

এই কাজের-ও দায়িত্বে থাকবে সামরিক ভূমি ও সেনাবাহিনী পরিচালক।এ কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে যুদ্ধকালীন লিখিত ফরমাশ করা জমি ও ভবনের অধিগ্রহণ,যুদ্ধকালীন জমি ও ভবনের মত নির্মিত সম্পদের নিষ্পত্তি এবং এসব সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ ব্যয়।

(৮)বিদেশী ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।এই প্রতিষ্ঠান ফ্রেঞ্চ,রাশিয়ান,জার্মান,চাইনিজ, জাপানিজ,পার্সিয়ান,আরবি,বার্মিজ এবং স্প্যানিশ ভাষার ট্রেনিং প্রদান করবে।

(৯)প্রধান পরিচালক,এই সংস্থা সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান পরিচালকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

(১০)মিলিত ঐতিহাসিক আন্তঃ-সেবা অধ্যায়।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

আরও পড়ুন

কাগতিয়ার পীর সন্ত্রাসী, ভন্ড- আল্লামা শফি

RumoChy Chy

অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় ৪ শিক্ষার্থী বরখাস্ত

hasanmunna

অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা হাস্যকর-ওবায়দুল কাদের

RumoChy Chy