bnanews24.com
বিএনএনিউজ২৪.কম/ পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী সম্পাদনায় : আবির হাসান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ১৯৭

জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা বোর্ডের অফিস ঢাকা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে  স্বাধীনতার সঠিক  ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫ খণ্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ।

আজ প্রচারিত হলো  পর্ব : ১৯৭

অর্থনৈতিক বিভাগের কার্যকলাপ নিম্নরুপঃ

(a) অর্থনীতি, অর্থনৈতিক এবং আর্থিক বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে গবেষণা ও পড়াশোনা করা।

(b) প্রস্তুতি এবং পেমেন্ট এর মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে পরিসংখ্যানগত রক্ষণাবেক্ষণ,

বাণিজ্য, মুদ্রা ও মুদ্রা ভারসাম্য বজায় রাখা।

(c) বিদেশী অর্থনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কিত  প্রতিবেদন যেসব বাংলাদেশি কূটনীতিকরা এবং বিদেশী ব্যাবসায়ীরা পাঠিয়ে থাকেন সেসব বিষয়ে পর্যালোচনা এবং পড়াশোনা।

৬। বীমা বিভাগঃ জীবন বীমা বাণিজ্যকে জাতীয়করণ করতে হবে। একটা জীবন বীমা সংস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই বিভাগ বীমা আইন নিয়ে কাজ করবে।

কোম্পানি আইন ও প্রশাসন বিভাগঃ এই বিভাগটি কোম্পানি প্রশাসন ও এর সাথে সম্পর্কিত পেশাদারী  ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থা নিয়ে কোম্পানি তদন্ত, লেনদেন এবং অনুমোদন নীতিমালা নিয়ে কাজ করবে। সেখানে চিটাগাং এর কিছু আঞ্চলিক অধিদপ্তর হতে পারে। খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকার জন্য আলাদা বিভাগীয় পরিচালক, কোম্পানি ব্যবস্থাপক ও কোম্পানি আইন প্রণেতা থাকবে। বিভাগীয় অধিদপ্তরের মূল কাজ হিবেঃ

১। কোম্পানির সব গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন এবং  এর ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সর্বদা দেশের সংস্পর্শে থাকতে হবে।

২। নিবন্ধিত কোম্পানী গুলোর কর্মদক্ষতার দিকে নজর রাখা এবং তাদেরকে সকল ব্যাপারে উপদেশ দেয়া যখনি তারা তা চাইবে।

৩। কোম্পানীর বিষয়াদি তদন্দ ও অনুসন্ধানের জন্য নিয়োগকৃত পরিদর্শককে সবসময় স্মরণিকা, পাবলিক প্রিসিকিউটর, পুলিশ প্রশাসন এবং অনুসন্ধানী পরিদর্শককে কার্যাবলির জন্য সহায়তা করতে হবে।

৪। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্প উন্নয়নের ব্যাপারে

দেশ এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা প্রবণতা এবং

কোম্পানি আইন নিয়মানুযায়ী সুরক্ষিত করতে সহায়তা করা এবং

প্রশাসনিক  যুক্তি পরামর্শ অব্যাহত রাখা।

৫। যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসাবে কোম্পানি এবং সরকারের মধ্যবর্তী কাজ করা।

৬। মানুষ এবং বিশেষ করে ছোট কোম্পানি গুলোকে আইনের প্রয়োগ এর ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া।

যৌথ কার্যালয়ঃ

নিম্নে যৌথ কার্যালয়ের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হলঃ

জাতীয় সঞ্চয় কমিশনারের কার্যালয় ঢাকাঃ

এই অফিস একটি জেলার ভিত্তিতে কাজ করা উচিত এবং একটি কেন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

ঢাকায় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় কমিশনারের অধীনস্থ হবে। আমি, সে পুরো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ হবে জনগণের

মধ্যে মিতব্যয়ী অভ্যাস গড়ে তোলা।

(২) বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রেস (সাথে কারেন্সি নোট প্রেস এবং সেন্ট্রাল স্ট্যাম্প স্টোর নির্মিতব্য) বাংলাদেশের সরকারি নোট, ডাক এবং অন্যান্য স্ট্যাম্প, ডাক স্টেশনারি এবং বিবিধ সামগ্রী, যেমন আবগারি ব্যান্ডরোল এখানে ছাপানো হবে।

(৩) বাংলাদেশের সরকারি টাকশাল (ঢাকায় নির্মিতব্য)। টাকশালের প্রধান কাজগুলি হবে: (ক) ছাপা, ঢালাই, মুদ্রণ এবং বাংলাদেশের খনি, ব্যাংক, বাটখারা ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের স্বর্ণ ও রুপার বাট বিশোধন করা। (খ) স্টেট্ ব্যাংক অফ বাংলাদেশের জন্যে নোট-পানচিং মেশিনের উৎপাদন এবং মেরামত করা। (গ) আদর্শ ওজন ও পরিমাপের উৎপাদন এবং যাচাইকরণ এবং সামঞ্জ্যঃসকরণ। (ঘ) স্ট্যাম্প অফিসের রঞ্জক, সরকারি সিল ইত্যাদি উৎপাদন। (ঙ) মেডেল, সামরিক নক্ষত্র এবং ব্যাজের আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি।

(৪) গবেষণা বিভাগ। সরকারি বিভাগ এবং জনসাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যে স্বর্ণ এবং রৌপ্য এবং জালমুদ্রা ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

(৫) জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা বোর্ডের অফিস। ঢাকা। এই দপ্তরের প্রধান কাজগুলো হলো:

ক) সংগঠনে জমা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের নীতি নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রযুক্তি সাহায্য বিষয়ক পরিকল্পনা উপস্থানের ব্যাপারে সরকারকে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা।

(খ) প্রযুক্তি সহায়তা বিষয়ক বোর্ড এবং সংগঠন গুলোকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি সহায়তার ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করা। সেই সাথে সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে সরকারের সাথে চুক্তি প্রণয়ন এবং প্রয়োজনে এই সকল সংগঠনকে সরকারী নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অন্যান্য চুক্তির ব্যাপারে সহায়তা করা।

(গ) বিভিন্ন সংগঠন দ্বারা প্রযুক্তি সহায়তার যথাযথ প্রভাবমূলক ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য সহায়তা প্রদান এবং সেই সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সহায়তা সংগঠনগুলো দ্বারা নিযুক্ত বিশেষজ্ঞদের দ্বারা ঠিকমত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা তদারক করা।

(ঘ) সুবিধার জন্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্থাপিত সমন্বিত মেশিনারি ব্যবহার করতে কারিগরি সহায়তা করা।

(ঙ) প্রয়োজনে প্রশাসনের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞদের বিশেষ অনুরোধ বিবেচনায় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান এবং সেই সাথে বিশেষজ্ঞদের ফান্ড এর বাইরে সরকারি ভাবে কিংবা সংগঠনের কাছ থেকে আনুষঙ্গিক খরচ প্রদান নিশ্চিত করা।

(চ) ফেলোশীপ ও বৃত্তি প্রার্থীর বাছাই করতে সরকারকে সহায়তা করা।

(ছ) কারিগরি সহায়তা সংক্রান্ত সব বিষয় বজায় রাখার জন্য একদিকে সরকার এবং প্রতিষ্ঠানের মাঝে সমন্বয় করতে হবে।

পরিদর্শন ও তদন্ত অধিদপ্তর(আয়কর):

অধিদপ্তরের অধীনে একটি পৃথক সংগঠন থাকবে যার কাজ হবে ঠিকাদারদের ছোট-বড় লেনদেন ও লভ্যাংশের রশিদ বাংলাদেশের সকল আয়কর অফিস থেকে সংগ্রহ ও সরবরাহ করা।

অধিদপ্তরের পরিচালকদের (আয়কর) কাজ হবে নিম্নরুপঃ

১। কারিগরি কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একজন বিশেষায়িত অফিসার দায়িত্বে থাকবে।

২। বাজেটের সাথে বাংলাদেশের সকল অগ্রগতির প্রতিবেদনের সংকলন তুলনামূলক  মূল্যায়ন করতে হবে।

৩। বিভিন্ন প্রকার দক্ষ এবং কার্যকরী অর্থনৈতিক নির্দেশনার বিবেচনা করতে হবে।

৪। আইন প্রয়োগকারী তদন্ত সংস্থা সকল কার্যকলাপের মূল্যায়ন,রক্ষণাবেক্ষণ  এবং সংকলনের জন্য নিবিড় নজরদারি করবে।

৫। গেজেটেড এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও সৃষ্টিশীল কাজের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। রাজস্ব বোর্ডের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে গেজেটেড এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং সম্পন্ন করতে হবে।

৭। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বি-করারোপ চুক্তি বিধানের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাজ করবে এই কমিটি।

৮। আপীলের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সহকারী কমিশনারের কার্যালয় পরিদর্শন করতে হবে।

৯। অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট এবং এই সংক্রান্ত উদ্ভূত  সকল ব্যাপারে রাজস্ব বোর্ডকে পরামর্শ দেয়া।

১০। নতুন কর এলাকা তৈরির জন্য কর কমিশনারকে পরামর্শ প্রদান।

(a) তদন্ত শাখাঃ

এই শাখা বৃহদাকার কর ফাঁকির মামলার ব্যাপারে বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং গভীর তদন্ত করবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসাবে এটি অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখবে এবং তথ্য সংগ্রহ করবে।এই শাখা কর্মকর্তাদের তদন্ত করতে সাহায্য করবে এবং প্রয়োজনীয় কারিগর সহযোগিতা দিবে। আয়কর কর্মকর্তাদের মধ্যে দূর্নীতির ব্যাপারেও এই শাখা কাজ করবে।

৭। পরিদর্শন অধিদপ্তর – শুল্ক ও আবগারিঃ

এট নির্বাহী নিরীক্ষার জন্য একটি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

প্রশাসনিক আবগারি ও রীতি-নীতি ও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে রাজস্ব আদায় করা।

সম্পাদনায় : আবির হাসান

 

আরও পড়ুন

বিদেশী দূতাবাসে নালিশ করে বেড়াচ্ছে বিএনপি-ওবায়দুল কাদের

RumoChy Chy

নিমতলীতে বাবা ও শিশুকন্যার গলাকাটা  মরদেহ উদ্ধার

Jishan Islam

বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ পর্ব : ১০০

showkat osman