bnanews24.com
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ২৪৪

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৯৪

“চিন্তা করবেন না, আমি মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ।”

আজ প্রকাশিত হলো পর্ব : ১৯৪

সিভিল সার্জন এবং জেলের সুপারিনটেনডেন্ট, তাঁদের নির্দেশে আমাকে জেলগেটে নিয়ে যাওয়া হল। চন্দ্র ঘোষ স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন। দেখে মনে হল, আর বাঁচবেন না, আমাকে দেখে কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “ভাই, এরা আমাকে ‘সাম্প্রদায়িরক’ বলে বদনাম দিল; শুধু এই আমার দুঃখ মরার সময়! কোনোদিন হিন্দু মুসলমানকে দুই চোখে দেখি নাই। সকলকে আমায় ক্ষমা করে দিতে বোলো। আর তোমার কাছে আমার অনুরোধ রইল, মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখ। মানুষে মানুষে কোন পার্থক্য ভগবানও করেন নাই। আমার তো কেউ নাই, আপন ভেবে তোমাকেই শেষ দেখা দেখে নিলাম। ভগবান তোমার মঙ্গল করুক।”

এমনভাবে কথাগুলো বললেন যে সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার সাহেব, ডেপুটি জেলার, ডাক্তার ও গোয়েন্দা কর্মচারী সকলের চোখেই পানি এসে গিয়েছিল। আর আমার চোখেও পানি এসে গিয়েছিল। বললাম, “চিন্তা করবেন না, আমি মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ।” আর কথা বলার শক্তি আমার ছিল না। শেষ বারের মত বললাম, “আল্লাহ করলে আপনি ভাল হয়ে যেতে পারেন।” তাঁকে নিয়ে গেল। সিভিল সার্জন সাহেব বললেন, “আশা খুব কম, তবে শেষ চেষ্টা করছি, অপারেশন করে।”

আমরা সকলেই খুব চিন্তায় রইলাম, কি হয়! ‍দুই ঘণ্টা পরে জেল কর্তৃপক্ষ খবর দিল, অপারেশন করা হয়ে গেছে, অবস্থা ভালই মনে হয়। সন্ধ্যায় আবার খবর পেলাম, বাঁচার সম্ভাবনা আছে, তবে এখনও বলা যায় না। রাতটা অনেক উদ্বেগে কাটালাম, সকালবেলা খবর পেলাম তাঁর অবস্থা উন্নতির দিকে। গলা দিয়ে মল আসছে না। আশা করা যায়, এবারকার মত বেঁচে যাবেন।

পরের দিন সরকার থেকে খবর এসেছে তাঁকে মুক্তি দিতে। ‍মুক্তি তিনি পেলেন, তবে কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে, যদি বেঁচে যান। বোধহয় পনের দিন হাসপাতালে ছিলেন। আর ভয় নাই, শুধু ঘা এখনও সম্পূর্ণরূপে ভাল হয় নাই। তাঁকে হাসপাতাল ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরীণ আদেশ দিলেন। তাঁর গ্রাম রামদিয়ায় তাঁকে থাকতে হবে। চন্দ্র ঘোষ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বললেন, “যদি পাকিস্তানে থাকতে হয়, তবে গ্রামে অন্তরীণ থাকতে হবে। আর যদি চিকিৎসা করতে কলকাতা যেতে চান, আমাদের আপত্তি নাই। যখন আসবেন, পুলিশকে খবর দিতে হবে।”

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : মনির ফয়সাল

আগের পর্ব পড়ুন : বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৯৩

আরও পড়ুন

ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে বন্যায় সড়কের বেহাল দশা 

bnanews24

ক্লাস নেয়ার দাবিতে চপইতে মানববন্ধন

mintu

ডিআইজি মিজানের জামিন নামঞ্জুর

bnanews24