bnanews24.com

ঢাকা ও চট্টগ্রামের করোনা ভিন্ন প্রকৃতির!

বিএনএ, চট্টগ্রাম : সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) জিন বিন্যাসের সঙ্গে মিল রয়েছে চট্টগ্রামের। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে করোনা আক্রান্ত ৭ ব্যক্তির নমুনা নিয়ে ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিন বিন্যাস উন্মোচন করেছে একদল গবেষক।

সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ জানান, চট্টগ্রামে আমরাই প্রথমবারের মতো জিন বিন্যাস উন্মোচন করেছি। একইসঙ্গে দেশে প্রথমবারের মতো সাতটি জিন বিন্যাস নির্ণয় করে আমরা জিআরএসএইড-এ জমা দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে ছিল বিজিআরআই ও বিটিআইডি। আমরা তিনটি প্রতিষ্ঠান মিলে এই কাজটি করেছি বলতে পারেন। আমাদের ল্যাবে সিকুয়েন্সিং মেশিন ছিল না। বিজিআরআই তাদের সিকুয়েন্সিং মেশিন দিয়ে আমাদের সহায়তা করেছে। আর নমুনা দিয়ে সহায়থা করেছে বিআইটিআইডি।

তিনি জানান, জিন বিন্যাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার, এর বিবর্তন ও বংশবৃদ্ধির ক্ষমতা এবং নিরাময়ের উপায় আবিষ্কার সহজ হবে। চট্টগ্রাম বিভাগে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সাতজন রোগীর ভাইরাসের জিন বিন্যাস উন্মোচন করা হয়। এর মধ্যে তিনটি সৌদি আরব, দুটি সিঙ্গাপুর, একটি অস্ট্রেলিয়া ও একটি রাশিয়ার ভাইরাসের সাথে মিল পাওয়া গেছে। এসব রোগীদের সাথে ওই দেশগুলোর কারও যোগাযোগের ইতিহাস রয়েছে কি না তা বের করার চেষ্টা চলছে। আরও ২০টি নমুনার জিন বিন্যাস বের করার জন্য পাঠানো হয়েছে।এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের সাতটির জিন বিন্যাস থেকে বোঝা যায় ঢাকায় আক্রান্তদের ভাইরাসের সঙ্গে এখানকার ভাইরাসের তেমন মিল নেই। সেখানে ইউরোপিয়ান দেশগুলো থেকে সংক্রমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর গত ২৫ মার্চ বিআইটিআইডি এবং ২৫ এপ্রিল সিভাসু শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশের সমন্বয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা দুই সপ্তাহ ধরে অত্যাধুনিক নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং (এন জি এস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে এই জিন বিন্যাস উদ্ধারে কাজ করেন।

গবেষক দলের সদস্যরা হলেন- সিভাসুর প্যাথলজি অ্যান্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জুনায়েদ ছিদ্দিকী, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. সিরাজুল ইসলাম, বিআইটিআইডির পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. শহীদুল ইসলাম ও সাব্বির হোসেন।

সিভাসুর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিআইটিআইডির ল্যাবে পাওয়া নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলার ১২টি নমুনা ঢাকার বিজেআরআই-এর জিনোম সিকোয়েন্সিং ল্যাবে পাঠানো হয়। এই পদ্ধতিতে ইলুমিনা নেক্সটসেক প্ল্যাটফর্মে প্রায় ২৩ গিগাবাইট জিনোম ডেটা সংগৃহীত হয়।

পরবর্তীতে বায়োইনফরমেটিক্স অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে মানব কোষের আরএনএ এবং করোনাভাইরাসের আরএনএ পৃথক করা হয়। এরপর সবগুলো সিকোয়েন্সকে জিনোম অ্যাসেম্বলি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণপূর্বক নভেল করোনাভাইরাসের জিন বিন্যাস উদঘাটন করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বিভিন্ন করোনাভাইরাস পজিটিভ রোগী কোন ধরনের ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে, তা এই গবেষণার ফলে জানা সম্ভব হবে।

বিএনএ/মনির,এসজিএন

আরও পড়ুন

চবিতে হল পরিদর্শনে প্রশাসন

bnanews24

বিএনপি’র আন্দোলনের হুমকি  হাস্যকর-তথ্যমন্ত্রী

RumoChy Chy

মালয়শিয়ার ইমিগ্রেশনে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ১৫৯৪ বাংলাদেশি

bnanews24