bnanews24.com
ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তের এলডিএল বৃদ্ধি করে

ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তের এলডিএল বৃদ্ধি করে

বিএনএ, রিপোর্ট:  শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট একটি নীরব ঘাতক। যার মূল উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও যা সাধারণত ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তের এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বৃদ্ধি করে, অপরদিকে এইচডিএল বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল রক্তবাহী ধমনিতে জমা হয়ে রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে, হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

ভোজ্য তেলকে যখন বিশেষ রাসায়নিক উপায়ে জমাট করা হয়, তখন এটি ট্রান্সফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। এটি রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় বলে প্রমাণিত হয়েছে। মার্জারিন, কেক, পেস্ট্রি ও বেকারির খাবারে এই উপায়ে ট্রান্সফ্যাট ব্যবহৃত হয়। এটি রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়ায় এবং হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়ায়।

২০১০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে অন্তত ৮ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য উচ্চ মাত্রার ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ দায়ী।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, হৃদরোগসহ সকল অসংক্রমক ব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট গ্রহনের কারণে সার্বিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির দৈনিক ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ হওয়া উচিত মোট খাদ্যশক্তির ১ শতাংশের কম, অর্থাৎ দৈনিক ২০০০ ক্যালোরির ডায়েটে তা হতে হবে ২.২ গ্রামের চেয়েও কম। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করার একমাত্র পথ হলো সচেতনতা।

জানা গেছে, ট্রান্সফ্যাটের স্বাস্থ্য ক্ষতি থেকে সকল মানুষকে সুরক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট মুক্ত বিশ^ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সংস্থাটি ২০১৮ সালে রিইপ্লেস অ্যাকশন প্যাকেজ ঘোষণা করে যেখানে খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে সরকার কিভাবে কাজ করবে তার নির্দেশনা রয়েছে। ইতিমধ্যে, ভারত, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, তুরস্কসহ পৃথিবীর ৩০টিরও বেশি দেশ খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সংস্থাটি বলেছে, এই ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি সাধারণত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, স্ন্যাক্স, তেলে ভাজা খাবার, হিমায়িত পিজ্জা, পাই, কুকি, মার্জারিন ও স্প্রেডস বা মাখিয়ে খাওয়ার বিভিন্ন খাবার মিশ্রণে পাওয়া যায়।
এছাড়াও, ভবিষ্যতে করোনার মত মহামারী থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা নির্ধারণ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। খাবারে ট্রান্সফ্যাটের অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা, মোড়কে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখ এবং চিহ্নিতকরণের বাধ্যবাধকতা না থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তারা বলেন, জাঙ্ক ফুড এবং বেকারি পণ্যের উপর মানুষের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা ট্রান্সফ্যাটজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে গত জানুয়ারি মাসে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ বিষয়ে গঠিত ১০ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপে পিছিয়ে পড়ে নীতিমালা চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন

সীতাকুণ্ডে ঝটিকা সফরে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন

bnanews24

দীর্ঘদিন পর ভাবী-দেবর একসঙ্গে খাবার খেলেন

bnanews24

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে সিগারেট বিক্রি বন্ধ করবে চসিক

bnanews24