bnanews24.com
কাস্টমস

চট্টগ্রাম কাস্টমসে সমাপ্ত অর্থবছরের শেষ দিনে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড

।।মনির ফয়সাল।।

২০১৯-২০ অর্থ-বছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮ হাজার ২৯৮ কোটি ৫ লাখ টাকা।কিন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা বা ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪৩ হাজার ৫৭৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ওই অর্থ বছরেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ১ হাজার ৮১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

কাস্টমস তথ্য মতে, অর্থ বছরের শেষ মাস জুনে আদায়ের লক্ষ্য ছিলো ৪ হাজার ৫৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় হয় ৪ হাজার ১৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। তবে এটা আগের অর্থবছরের জুনের চেয়ে ৩৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। তখন আদায় ছিলো ৩ হাজার ৬৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থবছরের শেষ দিন গত ৩০ জুন কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৬৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় বেড়ে দাঁড়ায় ৩০০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শেষ দিনের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ৯১ কোটি টাকা বেশি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয় এমন ২০টি পণ্যের চিত্র তুলে ধরা হল: হাই স্পিড ডিজেল অয়েল (এইচ এস কোড ২৭১২০১২৬১), সিমেন্ট ক্লিনার্স (এইচ এস কোড ২৫২৩১০২০), palm oil প্লাম অয়েল (এইচ এস কোড ১৫১১৯০৯০) আপেল, ফ্রেস, নেস (এইচ এস কোড ০৮০৮১০৯০), ন্যাচারাল গ্যাস (এইচ এস কোড ২৭১১১১০০), আদার ক্যান সুগার (এইচ এস কোড ১৭০১১৪০০) ব্রোকেন অর ক্রাশড স্টোন(এইচ এস কোড ২৫১৭১০৯০),ক্রুড অয়েল(এইচ এস কোড ১৫০৭১০০০), পেট্রোলিয়াম অয়েল (এইচ এস কোড ২৭০৯০০০০), ফেরোস ওয়েইস্ট ও স্কিপ(এইচ এস কোড ৭২০৪৪৯০০), এফ./হট রোলড(এইচ এস কোড ৭২০৮৩৯২০), পিস্টন ইঞ্জিন মোটরসাইকেল(এইচ এস কোড ৮৭১১২০২১),ক্রুইজ শিপ, এক্সকারশন বোট, ইত্যাদি,ফর পিপল, (এইচ এস কোড ৮৯০১১০৯০), পলি প্রোপিলিন ইন প্রাইমারি ফর্মস(এইচ এস কোড ৩৯০২১০০০), পলিভিনিল ক্লোরাইড, (এইচ এস কোড ৩৯০৪১০০০), রিকন্ডিশনড মোটর কার (এইচ এস কোড ৮৭০৩২২১১), আদার কয়লা, নট আগলোমিটারড, এনইএস(এইচ এস কোড ২৭০১১৯০০), মিল্ক এন্ড ক্রিম পাউডার, গ্র্যান অর ওথ, সলিড ফর্ম ফ্যাট(এইচ এস কোড ০৪০২২১৯১), ফিনিশিং সিরামিক্স(এইচ এস কোড ৬৯০৭৪০০০), আদার মটর কারস এন্ড ওথ, ভেহিকেলস ইনক্লুডিং স্টেশন ওয়াগন, সিবিইউ(এইচ এস কোড ৮৭০৩৩২৬১)। এসব পণ্য থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। আমদানি কম হওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় রাজস্ব কম আদায় হয়েছে এমন ২০টি পণ্যের চিত্র তুলে ধরা হল: পিস্টন ইঞ্জিন মোটরসাইকেল(এইচ এস কোড ৮৭১১২০২১), হাই স্পিড ডিজেল অয়েল(এইচ এস কোড ২৭১০১২৬২), লুব্রিকেটিং অয়েল(এইচ এস কোড ২৭১০১৯২১), ভেসেলস(এইচ এস কোড ৮৯০৮০০০০), ক্রুড অয়েল(এইচ এস কোড ১৫০৭১০০০), রিকন্ডিশনড মোটর কার(এইচ এস কোড ৮৭০৩২২১১), সিমেন্ট ক্লিংকার(এইচ এস কোড ২৫২৩১০২০), ব্ল্যাক টি ফার্মেন্টেড(এইচ এস কোড ০৯০২৪০০০), লিথিয়াম-আয়ন(এইচ এস কোড ৮৫০৭৬০০০), আদার ইলেক্ট্রিক কনডাকটরস(এইচ এস কোড ৮৫৪৪৬০০০), ফিনিশিং সিরামিকস(এইচ এস কোড ৬৯০৭৪০০০), বোর্ডস ইকুইপড উইথ টু/মোর অ্যাপারাটাস অব ৮৫.৩৫(এইচ এস কোড ৮৫৩৭২০০০), লিউব বেইস অয়েল(এইচ এস কোড ২৭১০১৯২২), পেট্রোলিয়াম অয়েল(এইচ এস কোড ২৭০৯০০০০), ট্রাক ইন সিকেডি কনডিশন(এইচ এস কোড ৮৭০৪২২১৭), এফ.রোলড প্রড ইন কয়েলস(এইচ এস কোড ৭২০৮২৭৯০), সিএনজি অপারেটেড ৩ হুইলড ভেহিকেল, ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন, সিবি(এইচ এস কোড ৮৭০৩৯০১১), ওয়্যার অব রিফাইন্ড কপার(এইচ এস কোড ৭৪০৮৩৯০১১), ওথ ইন কয়েলস(এইচ এস কোড ৭২০৮৩৯৮০) ও বেটেল নাটস (এইচ এস কোড ০৮০২৯০১৯)।

এসব পণ্য থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ)কে বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হওয়ার পিছনে প্রথমত কারণ রয়েছে আমদানি কম হওয়া। আর যেসব পণ্য আমদানি হয়েছে বন্দর থেকে তা খালাস হয় নাই।

এছাড়া আন্তজার্তিকভাবে অনেক পণ্যের দাম কমে গেছে।এর ফলে আমরা যে পণ্যের মূল্যের ওপর শুল্ককর ধার্য করি তা কমে গেছে। তিনি বলেন, নতুন অর্থ বছরে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করেছি। এজন্য মিথ্যাঘোষণা, চোরাচালান, শুল্কফাঁকি রোধ করতে কঠোর অবস্থান থাকবে কাস্টমস। আর আমাদের অনেকের কাছে বকেয়া টাকা রয়েছে ওগুলো সংগ্রহ করা হবে।

বিএনএ/এসজিএন

আরও পড়ুন

আসলাম চৌধুরীর ভাইয়ের মৃত্যুতে  মির্জা ফখরুলের শোক

RumoChy Chy

করোনার উপসর্গ নিয়ে খাদ্য বিভাগের প্রধান নিয়ন্ত্রকের মৃত্যু

marjuk munna

ইসিবির টুর্নামেন্টগুলিতে বোলিং করতে পারবেনা হাফিজ

marjuk munna