bnanews24.com
এলাকার উন্নয়নে ২০ কোটি করে টাকা পাচ্ছেন এমপিরা

এলাকার উন্নয়নে ২০ কোটি করে টাকা পাচ্ছেন এমপিরা

বিএনএ, ঢাকা: করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে গৃহীত সরকারি কার্যক্রম এবং সেই সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ বণ্টনে পাত্তা দেয়া হয়নি এমপিদের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা এই পদটিতে সমাসীন অনেকের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও লুণ্ঠনের অভিযোগ ওঠে দেশজুড়ে। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজেদের আখের গোছাতে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে লকডাউনের কারণে সেসময়টায় গৃহবন্দি হয়ে না খেতে পাওয়া সাধারণ মানুষের আহাজারিও।

ফলে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব এমপিদের বদলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেয়া হয়। যার পুরোভাগে ছিলেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এতে এমপিদের মন যে ভার হয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাদের কার্যক্রমে। করোনাকালে বেশির ভাগ এমপিই এলাকায় অবস্থান করেননি। পাশে থাকেননি জনগণের। দূর থেকে খোঁজখবর রাখছেন- এমন দাবি অনেক এমপি করলেও স্থানীয় লোকজন অবশ্য তাদের এই দাবি অগ্রাহ্যই করেছেন। এরই মধ্যে চলে গেছে কয়েকটি মাস। করোনার প্রাদুর্ভাব কিংবা মৃত্যুর হার না কমলেও সবকিছু খুলে দেয়ায় এখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে জনজীবন।

এমন পরিস্থিতিতে করোনায় থেমে থাকা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নজর দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম থেকে নানা অভিযোগে সরিয়ে নেয়া সেই এমপিদেরই অনুকূলে দেয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ।

সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ২০টি সংসদীয় আসন ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের বাদে প্রত্যেক আসনের এমপিই প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ পাচ্ছেন এই খাতে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ‘পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২৮০ জন এমপি এই বরাদ্দ পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে দেশের আর্থিক অবস্থা যখন মহাসংকটে এমন সময় সারা দেশের এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে দেশের ২৮০টি সংসদীয় আসনের এমপিদের অনুক‚লে ৬ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলেও আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রকল্পটি আগেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে করোনা সংকটের কারণে স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রকল্প আগে একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। এখন এই প্রকল্পের অনুমোদনের মাধ্যমে এমপিরা তৃতীয়বারের মতো বরাদ্দ পাচ্ছেন। এ দফায় বরাদ্দের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে তারা এলাকার রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, হাটবাজার ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারবেন। তবে একবারে নয়, চার ভাগে প্রতিবছর পাঁচ কোটি টাকা করে এই টাকা বরাদ্দ পাবেন তারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তা করোনা সংকট মোকাবিলায় অবদান রাখবে। সাধারণত গ্রামীণ এলাকায় প্রকল্পের কাজ হবে।

সূত্রমতে, এই প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ৩০৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৩৬০ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন, ৫ হাজার ৭৫ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক উন্নয়ন, এক হাজার ৯০ কিলামিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ৭ হাজার ৯৯২ মিটার গ্রামীণ সড়কে (১০০ মিটারের কম দৈর্ঘের) সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে এমপিদের জন্য এটি তৃতীয় ধাপের বরাদ্দ। এর আগে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রত্যেক এমপি নিজ আসনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এ সময় ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। এটি ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জুনে শেষ হয়। আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে নিজ নিজ আসনের জন্য এমপিরা আরো ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পান। সে সময় ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে ওই প্রকল্প চলমান।

বিএনএনিউজ/এফএস,মনির

আরও পড়ুন

ইভিএম যাচাই করলেন গণমাধ্যম কর্মীরা

bnanews24

জবিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

zulfiqur

চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি

Jishan Islam