bnanews24.com

উত্তমকুমার : আজও অমলিন

ওসমান গনী: তাকে বলা হয় বাংলা সিনেমার মহানায়ক। বেশিদিন বাঁচেননি। ৫৩ বছরের স্বল্পজীবনে কাঁপিয়েছেন রুপালী পর্দা। কালজয়ী সব সিনেমা উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। আজো সিনেমাপ্রেমীদের কাছে সমানে অমলিন মহানায়ক উত্তমকুমার।

উত্তম-সুচিত্রা জুটি বাংলা চলচ্চিত্রে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ঝড়  তুলেছেন। তাঁর অনবদ্য অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। হারানো সুর, পথে হল দেরী, সপ্তপদী, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, জীবন তৃষ্ণা , সাগরিকা , শুন বরনারী, সূর্যতোরণ, শ্যামলীসহ  অসংখ্য সিনেমা আজও দোলা দেয় সিনেমাপ্রেমীদের। উত্তম কুমার একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক।

উত্তমকুমারের জন্ম ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। কলকাতার আহিরীটোলায়। মা-বাবার দেওয়া  নাম হচ্ছে অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার সাউথ সাবার্বা‌ন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরে গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি। কর্মজীবনে পা বাড়াতে হয়।

তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল দৃষ্টিদান। এই ছবির পরিচালক ছিলেন নিতীন বসু।  বসুর পরিবার চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর সাড়ে চুয়াত্তর মুক্তি পাবার পর তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেন। সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি প্রথম সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন।

উত্তম কুমার বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন।  ছোটিসে মোলাকাত তার মধ্যে অন্যতম। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রথমটি নায়ক এবং দ্বিতীয়টি চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে তিনি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

১৯৬৭ সালে এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও চিড়িয়াখানা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন উত্তমকুমার (তখন এই পুরস্কারের নাম ছিল ‘ভরত’)। অবশ্য এর আগে ১৯৫৭ সালে অজয় কর পরিচালিত হারানো সুর ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন সমগ্র ভারতজুড়ে। সেই বছর হারানো সুর পেয়েছিল রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অফ মেরিট।

সঙ্গীতের প্রতিও  তার অসীম ভালবাসা ও আগ্রহ ছিল। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে এবং শ্যামল মিত্রের গানেই সবচেয়ে বেশি ঠোঁট মিলিয়েছেন উত্তম। ছবির গান রেকর্ডিংয়ের সময় শিল্পীর পাশে বসে তার অনুভূতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করতেন তিনি। এর ফলে গানের সাথে পর্দায় ঠোঁট মেলানো তার পক্ষে খুবই সহজ হতো। সঙ্গীতপ্রেমী উত্তম কাল তুমি আলেয়া ছবির সবগুলো গানের সুরারোপ করেন। ছবিটি ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায়। অভিনেতা, প্রযোজক এবং পরিচালক – সব মাধ্যমেই তিনি ছিলেন সফল।

তিন সন্তানের মধ্যে উত্তম কুমার ছিলেন সবার বড়। তার পিতার নাম সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম চপলা দেবী। তার ছোট ভাই তরুণ কুমার একজন শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন। তারা একত্রে বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।  উত্তম কুমার গৌরী দেবীকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায় মাত্র ৫৩ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান। উত্তমও মারা যান ৫৩ বছর  বয়সে । ১৯৬৩ সালে উত্তম কুমার তার পরিবার ছেড়ে চলে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে বসবাস করেন।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির শুটিং-এর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন উত্তম। প্রায় ৪০ বছর হতে চলল, কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নায়কের নাম গোনা শুরু হয় দুই নম্বর থেকে। এখনও তিনি এতটাই উত্তম। আজও কলকাতায় কিংবা ঢাকা বা চট্টগ্রামে কোনো পাড়া-মহল্লায় কোনো চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করলেও উত্তমকুমারের ছবির নামের তালিকা শুরুতেই উচ্চারিত হয়।

উত্তমকুমার অভিনীত ছবির সংখ্যা ২০২। অল্প সময়ে অনেক ছবি।  এর মধ্যে ৩৯টি ছবি ব্লকব্লাস্টার হিট, ৫৭টি সুপারহিট ও ৫৭টি ছবি ব্যবসাসফল হয়েছে। শক্তি সামন্ত পরিচালিত উত্তম অভিনীত হিন্দি ছবি ‘অমানুষ’ ও ‘আনন্দ আশ্রম’ সুপারহিট হয়। এ দুটি ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন  শর্মিলা ঠাকুর। ‘‘হারানো সুর’, ‘হ্রদ’, ‘সপ্তপদী’, ‘নায়ক’, ‘গৃহদাহ’, ‘এখানে পিঞ্জর’, ‘অমানুষ’, ‘বহ্নিশিখা’ ছবির জন্য আটবার বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। এ ছাড়া তিনি অনেক সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার লাভ করেছেন।

 

 

আরও পড়ুন

গণমাধ্যম কর্মীদের সমস্যা সমাধানে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস

bnanews24

নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদ আর নেই

RumoChy Chy

এবার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিলার মামলা

RumoChy Chy