bnanews24.com

ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম কালো আইন যেটি

।।মনির ফয়সাল।। কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে ১৪টি বছর জীবনের সোনালি দিনগুলো কাটিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার শ্রেষ্ঠ ভাষণে বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’তার এ ভাষণকে বুকে ধারণ করে নিরস্ত্র বাঙালী সশস্ত্র হয়েছিল। তারা নিজের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু সেই বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁদের তিন সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, দশ বছরের শিশু শেখ রাসেল, শেখ কামাল ও শেখ জামালের স্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের ও নিরাপত্তা কর্মীসহ ১১ জনকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ঘাতকরা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধুর সপরিবার নিহত হওয়ার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।দিনটি ছিল শুক্রবার ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অবৈধ ও স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ- ৫০/১৯৭৫ নামে একটি দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।এটি ছিল ইতিহাসের একটি নিষ্ঠুরতম কালো আইন।এ অধ্যাদেশটিতে দুটি ভাগ ছিল।যার প্রথম অংশে বলা হয়, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবত্ আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না”।

অধ্যাদেশের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়, “রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেয়া হলো। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনিদের রক্ষার্থে এ অধ্যাদেশ জারি করার মূল কারণ ছিল । শুরু হয় অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের খেলা। জনগণের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ২০ আগস্ট জারি করা হয় মার্শাল ল’।

জিয়াউর রহমানকে ২৫ আগস্ট চীফ অব আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ২১ বছর পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা কাণ্ডের বিচার শুরু করে।সরকার গঠনের মাধ্যমে এ অধ্যাদেশ বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের কাজ শুরু হয়।মামলা কার্যক্রম শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।আসামি পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ লাভ করে।আপিলে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের খালাস হয়।কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় আসলে এ মামলার কার্যক্রম পুনারায় বন্ধ হয়ে যায়। কার্যকর হয়নি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড।

আওয়ামীলীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয় লাভের পর আবার এ বিচার করার উদ্যোগ গ্রহন করে। ২০০৯ সালে লিভ টু আপিলের মাধ্যমে এ বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। আপিল শেষ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আদালত। তারমধ্যে বজলুল হুদা, মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খা্ন, একেএম মহিউদ্দিন এই ৫ জনের ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু বাকি ৬ জন আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, মোসলেমউদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও আব্দুল মাজেদ এখনও পলাতক রয়েছে। ইতোমধ্যে একজন বিদেশের মাটিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন হতে হবে-আজাদুর রহমান মল্লিক

bnanews24

সিনহাসহ পলাতক ১১ হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

RumoChy Chy

অযোধ্যা : ৫০০ বছরের টানাপড়েন, ১৩৪ বছরের আইনি লড়াই

showkat osman