বিএনএ, বিশ্বডেস্ক: রোববার (৩১ আগস্ট ) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন । তিনি বলেছেন, পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ভারত-চীন সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীনের তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মোদি বলেছেন, সীমান্তে সেনা প্রত্যাহারের পর শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সাত বছর পর মোদি চীন সফরে গেছেন এই সম্মেলনে যোগ দিতে। এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা চাপের মুখে মোদি ও শি এক ধরনের ঐক্যবদ্ধ বার্তা দিতে চাইছেন।
২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় সামরিক সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
২০২৪ সালের ভারত-চীন উভয় দেশই সীমান্ত নিয়ে নিজেদের মতপার্থক্য দূর করতে ও ব্যবসায়িক মিথস্ক্রিয়া স্বাভাবিক করতে সীমান্ত টহল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
মোদি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়াই নয়াদিল্লির লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং উভয় দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
বৈঠকে মোদি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের বিষয়েও কথা বলেছেন। মোদি বলেছেন, উভয় দেশের ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন জনগণের স্বার্থ আমাদের সহযোগিতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এটি সমগ্র মানবতার কল্যাণের পথও প্রশস্ত করবে।
চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে, তার বিরোধিতা করবে বেইজিং এবং ‘দৃঢ়ভাবে ভারতের পাশে দাঁড়াবে।‘
মোদি- শি বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়ে তাদের সম্পর্কের জমাট বরফ গলবে বলে আপাতত মনে করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না মনে করেন ভূ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন,ভারত ও চীনের মধ্যে বৈরীতার প্রধান কারণ হলো সীমান্তে ভূখণ্ডগত বিরোধ, বিশেষ করে আকসাই চীন এবং অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে সংঘাত। এই আঞ্চলিক বিরোধের পাশাপাশি কৌশলগত ও রাজনৈতিক কারণগুলোও তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিককালে, সীমান্ত বিরোধ নিরসনে চুক্তি হলেও, সামগ্রিক সম্পর্ক এখনো বেশ জটিল।
১৯৪৯ সালে চীন কমিউনিস্ট পার্টির বিজয়ের পর তিব্বত দখলের পর থেকেই ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের পরিবর্তন দেখা দেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বৃহত্তর কৌশলগত বিরোধে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা চীনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনএ/শাম্মী