বিএনএ, কুমিল্লা : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমাবেশ শেষে ফেরার পথে জামায়াত ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত কর্মী রাসেল, রবিউল হোসেন রকি ও রাসেল। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলাইমান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান খান, মামুন, নাজমা বেগম,নার্গিস। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে হাটবাইর গ্রাম এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে জামায়াতের অন্তত ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মিজান খান ও মোবারক চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী বলেন, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে পুনরায় জামায়াত-শিবির তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার গাড়িচালক আহত হন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশের একটি দল ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে জানানো হবে।
বিএনএনিউজ/এইচ.এম।
![]()
