মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর হবে দেশের অর্থনীতির নয়াদিগন্ত

বিএনএ, কক্সবাজার: কক্সবাজারের ডিজিটাল আইল্যান্ড মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে সবচেয়ে বেশি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নোঙর করতে পারবে এ বন্দরে। এটি হবে দেশের অর্থনীতির নয়া দিগন্ত। ফলে এ বন্দর চীন, মিয়ানমার-,ভারত নেপাল,ভুটান জাপান,ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাসহ আসিয়ান দেশগুলোকে সংযুক্ত করে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।

রোববার (২২ জানুয়ারি) মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে যান নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির ১০ সদস্য। এসময় চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান এসব কথা বলেন।

সংসদীয় কমিটির সদস্যগণ মাতারবাড়ির সমুদ্র বন্দর এলাকা পরিদর্শন কালে বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নমুখী ও জনবান্ধব সরকার।তাই টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুফল পাচ্ছে মানুষ।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান সংসদীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাতারবাড়িতে ইতোমধ্যে আড়াইশ মিটার প্রস্থ এবং ১৪.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে। এই চ্যানেলকে পাশে আরো ১০০ মিটার বাড়িয়ে গভীর সমুদ্র বন্দর করা হবে। এখানে বন্দর নির্মাণের জন্য এরমধ্যেই টেন্ডার জমা দেয়া হয়েছে। এখন টেন্ডারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। টেন্ডার পাস হলেই কাজ শুরু করা হবে। আশা করছি ২০২৬ সালে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর অপারেশনে যাবে।

প্রকল্পটি পরিদর্শন শেষে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা আরো বলেছেন, পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠবে এ বন্দর। যা দেশের অর্থনীতিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হতে আরো তিন বছর সময় লাগবে। তবে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রথম জেটিটি নির্মাণ করা হয় দু’বছর আগে। সেখানে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে গত বছরের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ১১১টি জাহাজ ভিড়েছে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে ৩৫০ মিটার প্রস্থ এবং ১৮ মিটার ড্রাফট কিংবা ল্যান্থের জাহাজ বার্থিং নিতে পারবে।

এসময় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির নেতৃত্বে সংসদীয় কমিটির সদস্য এম এ লতিফ এমপি, রনজিত কুমার রায় এমপি, আসলাম হোসেন সওদাগর এমপি, এস এম শাহাজাদা এমপি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল এম শাহজাহান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও সুধীজন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বিএনএ/ফরিদুল, এমএফ