24.5 C
আবহাওয়া
৮:০১ পূর্বাহ্ণ - মার্চ ২৮, ২০২৫
Bnanews24.com
Home » তনু হত্যা মামলা: ৯ বছরেও অগ্রগতি নেই

তনু হত্যা মামলা: ৯ বছরেও অগ্রগতি নেই

তনু হত্যা মামলা: ৯ বছরেও অগ্রগতি নেই

বিএনএ,কুমিল্লা: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। অথচ এ হত্যাকাণ্ডের ৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। দীর্ঘ এ সময়ে ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু এসব কর্মকর্তা কারা, কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে বের করতে পারেননি। এ কারণে ক্ষুব্ধ তনুর মা–বাবা, তাঁর পরিবারের সদস্য, সহপাঠীসহ কুমিল্লার সচেতন নাগরিক সমাজ।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) ২০১৬ সালের এই দিনে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়।

তনুর পরিবারের সদস্যরা বলেন, ৯ বছরে চারটি তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন আর ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন ছাড়া তদন্তে কোনো ধরনের অগ্রগতি দেখতে পাননি তাঁরা।

বুধবার দুপুরে ক্ষোভের সঙ্গে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘তনুডা যহন আছিল, তহন আমরার জীবনডা আছিল চান্দের মতো। আর অহন আমরার জীবনডা পুরা আন্ধার (অন্ধকার)। আইজ ৯ বছর হইল আমার আদরের মাইয়াডা কবরে। খুনিরার চেহারা অহনো সামনে আইল না। বিচার কিতা পাইয়াম হেইডা বুইজ্জালাইসি। এই ৯ বছর খালি আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) পাল্টান ছাড়া আর কোনো কামই হইছে না। আমি সরকারের কাছে আইওদের বিচার আগে চাই।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন,তাঁরার (তাঁদের) কারণে আমারা মাইয়ার খুনের বিচার হইতাছে না। এত দিন রাজনৈতিক সরকার ছিল। বিভিন্ন কারণে খুনিরা সামনে আসেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।মেয়ের খুনিদের বিচার না হলে মরেও শান্তি পাবেন না ।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী। চাকরির সুবাদে সেনানিবাসের কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে থাকেন। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরের জঙ্গল থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার শুরুতে প্রথমে থানা পুলিশ, পরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। শেষে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান।
তিনিও তদন্ত শেষ না করে বদলি হয়ে গেছেন। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই রাজধানীর কল্যাণপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

মজিবুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করার। আমাদের তদন্তে কোনো অবহেলা নেই। যখন প্রয়োজন, তখন ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। যোগাযোগ নেই, বিষয়টি সঠিক নয়।

তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রায় সাত মাস হলো তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ওই কর্মকর্তা একবারও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আমরাই তদন্ত কর্মকতা পরিবর্তনের তথ্য পেয়ে তাঁকে কল করেছি। প্রথমে কল রিসিভ করলেও বর্তমানে তিনি আমাদের কলও রিসিভ করেন না। আমার অসুস্থ মা ও বাবা তনুর জন্য কান্না করছে, কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত তদন্তের কোনো অগগ্রতি দেখছি না।’

মামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগের তদন্ত কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মামলার সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে আমরা আবারও ঘটনাস্থলে যাব। সেটি ঈদের আগেও হতে পারে, পরেও হতে পারে।’

তনুর মা ও ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করার। আমাদের তদন্তে কোনো অবহেলা নেই। যখন প্রয়োজন, তখন ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। যোগাযোগ নেই, বিষয়টি সঠিক নয়।’

বিএনএনিউজ / আরএস

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ