বিএনএ, বিশ্বডেস্ক : নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মাথায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং অপর এক সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবানিজ সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শনিবার (৬ জুন) নাবাতিয়েহ ও মারজাইউন শহরের মধ্যবর্তী সড়কে একটি গাড়িতে চালানো বিমান হামলায় ওই দেশটির সেনাবাহিনীর ওই তিন সদস্য নিহত হন। সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের সাকসাকিয়াহ গ্রামে পৃথক আরেকটি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘লেবানন, আমাদের জনগণ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পুনরাবৃত্ত আগ্রাসন আমাদের সংকল্প, বিশ্বাস ও দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে চলমান সব প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য।
গাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে তাদের দাবি, কফার তিবনিত গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের দিকে হামলার জন্য হিজবুল্লাহ ওই এলাকা থেকে গোলাবর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন ‘নির্দিষ্ট তথ্য’ পাওয়ার পর গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ হামলাকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে লেবানন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ দেশটিকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সরকার। সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করারও চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়নি।
শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতার জন্য ইরানের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে লেবাননকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এর জবাবে শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আউনের বক্তব্য শুনলে মনে হবে ইরান লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করেছে, দেশটির এক-চতুর্থাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন সেখানে বোমা হামলা।’
বিএনএনিউজ/এইচ.এম।
![]()

